
মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার শশিকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ দুর্লভানন্দ বাড়ৈ এবং তার স্ত্রী সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক চম্পা রানী মন্ডলের বিরুদ্ধে বছরের অধিকাংশ সময় ভারতে বসবাস করে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর (২০২৪ সালের আগস্টের পর) এই দম্পতি ভারতে চলে যান। অধ্যক্ষ দুর্লভানন্দ কিছুদিন পর দেশে ফিরলেও তার স্ত্রী চম্পা রানী এখনও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণীতে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ। সেখানে তারা বাড়ি করেছেন এবং সেখানেই সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করছেন।
চম্পা রানী ভারতে যাওয়ার আগে চেকে স্বাক্ষর করে রেখে যান, যার মাধ্যমে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তারা দাবি করেন, এই দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে কলেজে অনুপস্থিত থাকলেও বাংলাদেশ সরকারের এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) থেকে বেতন তুলছেন।
অভিযোগের বিস্তারিত
– দুর্লভানন্দ বাড়ৈ অধ্যক্ষ হিসেবে এবং চম্পা রানী প্রভাষক হিসেবে বেতন পান।
– স্থানীয়দের মতে, এটি স্পষ্ট অনিয়ম এবং দুর্নীতি।
– কিছু সংবাদমাধ্যমে (যেমন: ধাকাপোস্ট, যুগান্তর, নিউজ২৪) এই অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে।
অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। তারা দাবি করেন, ছুটির নিয়ম মেনেই সবকিছু চলছে।
রংপুর ও অন্যান্য অভিযোগের প্রসঙ্গ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পোস্টে এই দম্পতিকে হিন্দু নির্যাতনের “মিথ্যা গল্প” তৈরি এবং রংপুরকে ভারতের অধীনে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র বা সংবাদে সরাসরি তাদের সংশ্লিষ্টতার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রংপুরকে ভারতের অধীনে চাওয়ার মতো ভাইরাল কমেন্টের ঘটনা আলাদাভাবে উঠে এসেছে — কয়েকজন হিন্দু ব্যক্তি বা কর্মকর্তার (বিসিএসসহ) সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো সাধারণত ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে দেখা হয় এবং দেশদ্রোহিতার অভিযোগ হিসেবে তদন্তযোগ্য হতে পারে।
বাস্তবতা ও আইনি দিক
বাংলাদেশে চাকরিরত অবস্থায় দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং বিদেশে বসবাস করে বেতন তোলা স্পষ্ট অনিয়ম। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে, কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা বা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠলে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন — ধর্ম নির্বিশেষে।
এ ধরনের ঘটনা শিক্ষা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলে ধরে। সরকারের উচিত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া, যাতে জনগণের ট্যাক্সের টাকা অপচয় না হয়।
মন্তব্য করুন