
খলিফা সাগর : নিজস্ব প্রতিবেদক:
পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার বগা ইউনিয়নের পশ্চিম কায়না গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে জোরপূর্বক জমি দখল এবং একটি ফলন্ত কলাবাগান কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, জমি হারিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার না পেয়ে উল্টো চাঁদাবাজি মামলার আসামি হয়েছেন ভুক্তভোগী ইব্রাহীম মৃধা (ইব্রাহীম মাস্টার)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম কায়না গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীম মৃধার সাথে একই গ্রামের সত্তার সিকদারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার রাতে সত্তার সিকদারের দুই ছেলে রেজাউল করিম ও ইউসুফ আলী এবং সহযোগী নাজমুলসহ একদল লোক বিরোধপূর্ণ জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা সেখানে থাকা ইব্রাহীম মাস্টারের একটি কলাবাগানের প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি ফলন্ত কলাগাছ কেটে সাবাড় করে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, কলাগাছগুলো কেটে ফেলার পর অভিযুক্তরা সেখানে একটি বেকু (ভেকু/মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে রাতারাতি ভিটি তৈরি করে জমিটি পুরোপুরি নিজেদের দখলে নিতেচায়।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী ইব্রাহীম মাস্টার নিরুপায় হয়ে স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান এবং সালিশের অনুরোধ করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা স্থানীয় লোকজনের কোনো কথাই তোয়াক্কা করেনি। উপায়ান্তর না দেখে ইব্রাহীম মাস্টার বগা পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এবং নিজেদের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী ইব্রাহীম মাস্টারকেই আসামি করে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছে অভিযুক্ত পক্ষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সত্তার সিকদারের ছেলেরা এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। তারা ক্ষমতার জোর দেখিয়ে নিরীহ মানুষের জমি দখল করে এবং কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। একজন সম্মানিত শিক্ষকের সাথে এমন অন্যায় ও হয়রানিমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বগা পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, জমি দখল ও গাছ কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন