
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় এক রোগীকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে (ভাইরাল) স্থানীয় সচেতন মহল ও নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছে, পুরো ঘটনাটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ‘ভুল বোঝাবুঝি’।
ঘটনার সূত্রপাত ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী ও তার স্বজনরা দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে চিকিৎসার ব্যাপারে জানতে চান। অভিযোগ ওঠে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উক্ত চিকিৎসক রোগীকে সেবা না দিয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং সেবা প্রদান বন্ধ রাখেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি এ সময় পরিস্থিতি ও বাকবিতণ্ডার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ‘স্যার’ সম্বোধন করা না করা নিয়ে রোগী ও ডাক্তারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলছে এবং ওই অবস্থায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্বাস্থ্যসেবার মান ও সরকারি চাকুরিজীবীদের আচরণ নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশীদের ক্ষোভ:
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একজন সরকারি চিকিৎসকের প্রধান দায়িত্ব রোগীকে সেবা দেওয়া। কোনো শব্দ প্রয়োগ বা সম্বোধন নিয়ে অযথা তর্ক তুলে রোগীকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা মোটেও পেশাদার আচরণ নয়। রাজাপুরের সচেতন নাগরিকেরা বলেন, “আমরা তো সম্মান জানিয়েই ‘ভাই’ বলি। এটা তো কোনো গালি নয়। সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ে হাসপাাতলে যায়, কোনো উপাধি বা সম্বোধনের প্রতিযোগিতা করতে যায় না।”
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
বিতর্ক বাড়ার প্রেক্ষাপটে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিষয়টিকে একটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে রোগীদের প্রচণ্ড চাপ থাকে এবং সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকও অনেক সময় মানসিক চাপে থাকেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, “ঘটনাটি যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, বিষয়টি অতটা জটিল ছিল না। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ভুল বোঝাবুঝির নিরসন করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষকে যথাযথ সেবাদান নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আরও সহনশীল ও মানবিক আচরণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের নজরদারি:
ঘটনাটি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে বলে জানা গেছে। কোনো চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলা বা রোগীর সঙ্গে অসংবেদনশীল আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন