
মাহ্ফুজ নবীন:
বাংলাদেশের রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো প্রধান ভূমিকা রাখলেও দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা একটি ছোট কিন্তু সক্রিয় সম্প্রদায় গড়ে তুলেছেন। আনুমানিক তথ্য অনুসারে, এই দুই দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা মোট ৬ থেকে ৮ হাজারের মতো, যারা দেশে সামান্য পরিমাণে হলেও রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনৈতিক অবদান রাখছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ব্রাজিলে প্রায় ৫,৫০০ থেকে ৭,০০০ বাংলাদেশি বসবাস করেন। অধিকাংশই সাও পাওলোতে কাপড়ের ব্যবসা, গার্মেন্টস বাণিজ্য, হালাল মুরগির খামার, গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। ১৯৮০ এর দশক থেকে এখানে বাংলাদেশিদের আগমন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তারা স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে মিশে গেছেন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনায় বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা অনেক কম। বুয়েনস আইরেসের ওয়ান্স এলাকায় প্রায় ২৫০ জনের মতো নথিভুক্ত রয়েছেন, যদিও সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলছেন মোট সংখ্যা কয়েকশ ছাড়াতে পারে। ১৯৯০ এর দশক থেকে এখানে আসা বাংলাদেশিরা মূলত ইলেকট্রনিক্স ও ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা বাংলাদেশের জন্য বড় উৎস নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে এই দেশ দুটি থেকে বার্ষিক কয়েক মিলিয়ন ডলারের মতো আসে, যা মোট রেমিট্যান্সের খুব সামান্য অংশ। তবে প্রবাসীরা বলছেন, স্থানীয় ব্যবসা স্থিতিশীল হওয়ায় তারা নিয়মিত টাকা পাঠানোর চেষ্টা করেন। দক্ষিণ আমেরিকায় বাংলাদেশের একমাত্র দূতাবাস ব্রাজিলে অবস্থিত, যা আশপাশের দেশগুলোতেও সেবা প্রদান করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অঞ্চলে জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রাজিলের মতো বড় অর্থনীতির দেশে দক্ষ কর্মী পাঠানো গেলে রেমিট্যান্স বাড়তে পারে। বর্তমানে ছোট সম্প্রদায় হলেও এই প্রবাসীরা বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন তৈরি করছে। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এই অঞ্চলে বাংলাদেশিদের আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।
সরকারি উদ্যোগে দক্ষিণ আমেরিকায় জনবল রপ্তানি বৃদ্ধি করলে এই সংখ্যা ও রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন