
মাহ্ফুজ নবীন:
আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত থেকে মিলছে বহুল কাঙ্ক্ষিত জামিন। কিন্তু আদালত চত্বর থেকে কারাফটকের দূরত্ব পার হওয়া তো দূরের কথা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কেবল অনলাইন জটিলতার গ্যাঁড়াকলে আটকে থাকছে আসামিদের মুক্তি।
পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চালু হওয়া নতুন ‘অনলাইন জামিননামা’ পদ্ধতির ধীরগতিতে এখন নাভিশ্বাস ভুক্তভোগী আসামি ও তাদের স্বজনদের।
গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে এই আদালতে অনলাইন জামিননামা প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বিচারপ্রার্থীদের। হয়রানি কমানো এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে সহজীকরণের উদ্দেশ্যে সেবাটি চালু করা হলেও, বাস্তবে এটি রূপ নিয়েছে চরম ধীরগতির এক জাঁতাকলে।
সহজীকরণের নামে ‘ধীরগতির আত্মপ্রকাশ’!
আদালত চত্বরে সরেজমিনে দেখা যায়, জামিন পাওয়ার পর স্বজনদের মুখে যে স্বস্তির হাসি ফোটার কথা ছিল, তা রূপ নিয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও হতাশায়। জামিন মঞ্জুরের পর তা অনলাইনে তুলতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে আদালত থেকে জামিন পেলেও আসামিরা নির্দিষ্ট সময়ে কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না।
অভিভাবকদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি কাজ যেখানে দ্রুত শেষ হওয়ার কথা, সেখানে সার্ভারের চরম ধীরগতি ও অনলাইন জামিন পদ্ধতিটি নতুন রূপে শুরু হয়েছে বলে জটিলতার কারণে দিন পার হয়ে যাচ্ছে।
ভোগান্তির চরমসীমায় পৌঁছানো আসামির স্বজনরা বলছেন, “পদ্ধতিটি সহজ করার জন্য চালু করা হলেও বাস্তবে এটি এনালগ পদ্ধতির চেয়েও ধীরগতির।” ক্ষুব্ধ অনেক ভুক্তভোগী তো এটিকে ঠাট্টা করে ‘অনলাইন জামিননামা’র বদলে ‘অত্যাচারনামা’ বা ‘এনালগনামা’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের আকুতি:
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডিজিটাল সেবার মূল লক্ষ্যই হওয়া উচিত দ্রুত ও ভোগান্তিমুক্ত সেবা দেওয়া। কিন্তু পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই নতুন ব্যবস্থার যান্ত্রিক ত্রুটি ও ধীরগতির কারণে প্রতিটি পদে পদে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
দ্রুত এই অনলাইন জামিননামায় প্রক্রিয়ার সমস্যা সমাধান করে সেবাটি অতি দ্রুত সচল করা এবং আদালতের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার জন্য বিচার বিভাগীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় আইনজীবীরা এবং ভূক্তভোগীর পরিবার।
মন্তব্য করুন