
কুয়াকাটা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পেশাগত দায়িত্ব পালন ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জের ধরে দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর প্রতিনিধি সাংবাদিক কেএম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি পেটার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
* শহিদ সিকদার (ওরফে পচা শহিদ): সহসাধারণ সম্পাদক, কুয়াকাটা পৌর যুবদল।
* নাসির হাওলাদার: সহসভাপতি, ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকদল।
<span;>মহিপুর থানা পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হামলার পটভূমি ও কারণ:
জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কুয়াকাটায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক হোটেল কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে বায়েজিদ শিকদার নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক কে এম বাচ্চু। পরিবারের দাবি, এই সংবাদের প্রতিশোধ নিতেই তার ওপর হামলা চালানো হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে—
* সরকারি জমি থেকে অবৈধভাবে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ,
* স্থানীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ পরিবেশন, এবং
* সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী সংক্রান্ত একটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর কারণে তাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
যেভাবে ঘটেছিল নৃশংস হামলা:
গত ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকত সংলগ্ন এলাকায় সাংবাদিক কেএম বাচ্চুকে একা পেয়ে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে তার মাথা ও দুই পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বায়েজিদ শিকদার রানা, পৌর যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শহিদ সিকদার ও ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন।
সংকটজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে সাংবাদিক বাচ্চু:
সাংবাদিকতার পাশাপাশি কে এম বাচ্চু উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ, পর্যটন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি—
* কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশন
* উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন
* বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন
সহ একাধিক সামাজিক সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
রাজনৈতিক ও আইনি প্রতিক্রিয়া:
> কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক:
> “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করেছি। বর্তমানে জেলা কমিটি বিলুপ্ত থাকায় আমাদের পক্ষ থেকে সরাসরি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
> কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার:
> “সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। সাংবাদিকের ওপর হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও দুঃখজনক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
> মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার:
> “মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
মন্তব্য করুন