
ঢাকা প্রতিনিধি:
১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার (চেক প্রত্যাখ্যান) মামলায় সাজাপ্রাপ্ত জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ নির্দেশ প্রদান করেন।
গ্রেফতার ও বিচারিক প্রক্রিয়া এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মুজিব পরদেশীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর দিন সকালে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন জানান, উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করে সাজা পরোয়ানা অনুযায়ী কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানি চলাকালে মুজিব পরদেশীর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী সফিকুল ইসলাম জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও পূর্ববর্তী রায় অর্থনৈতিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২২ সালে মাগুরার আদালতে ইদ্রিস আলী বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি মুজিব পরদেশীর বিরুদ্ধে দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (এনআই অ্যাক্ট)-এর আওতায় এই চেক ডিজঅনার মামলাটি দায়ের করেন।
মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মাগুরার ২য় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মুজিব পরদেশীকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ অর্থাৎ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ও পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
সংগীত জগতে প্রভাব আশি ও ৯০-এর দশকে বাংলাদেশের লোকসংগীত ও ফোক ধারায় মুজিব পরদেশী ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ‘কলমে নাই কাইয়া কালি’, ‘আমি বন্দী কারাগারে’, ‘তোমাদের কসম লাগে’ কিংবা ‘আমার সাদা দিলে কাদা লাগাই গেলি’-র মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁর কণ্ঠে শ্রোতানন্দিত হয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গান গাওয়ার পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু চলচ্চিত্রের গান পরিচালনা ও সুর সংযোজন করেছেন।
মন্তব্য করুন