
নিজস্ব প্রতিবেদক, গলাচিপা:
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের লামনা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক নিরীহ যুবককে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর প্রতিবাদে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো প্রকার তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই সম্পূর্ণ সন্দেহমূলকভাবে রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তিকে থানায় অভিযুক্ত করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজ। এ ঘটনায় তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনুমানিক কয়েক মাস আগে বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের লামনা গ্রামের শামসু হাওলাদারের গোয়ালঘর থেকে রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে একটি গরু চুরি হয়। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এলাকাবাসী খোঁজাখুঁজি করে একই গ্রামের বাসিন্দা মাছ ইউনুস বাড়ির পেছন থেকে চুরি হওয়া গরুটির চামড়া ও মাংস উদ্ধার করে।
গরু চুরির ঘটনার কিছুদিন পর ভুক্তভোগী রুহুল আমিন জানতে পারেন যে, তাকে সন্দেহভাজন আসামি করে গলাচিপা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই বিষয়ে রুহুল আমিন যখন গরুর মূল মালিক এবং যার কাছে গরুটি বর্গা (ভাগ রাখালি) দেওয়া হয়েছিল তাদের কাছে গিয়ে জানতে চান— কেন তাকে আসামি করা হলো? তখন তারা অবাক করার মতো মন্তব্য করেন।
গরুর মালিক জানান আমরা মামলার বা অভিযোগের ব্যাপারে কিছুই জানি না। এটা আমার ছেলে নজরুল করেছে।”
পরবর্তী সময়ে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে গরুর মালিক বসার মিয়া নিজেই স্বীকার করেন যে, তার ছেলে নজরুল এই অভিযোগ করেছে। শুধু তাই নয়, যার কাছে গরুটি বর্গা রাখা হয়েছিল, তার ছেলে সোহেলকেও এই চুরির ঘটনায় সন্দেহ করা হয়েছিল। কিন্তু সোহেলকে আসামি না করে কেন রুহুল আমিনকে আসামি করা হলো— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বসার মিয়া কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি আবারও দায় এড়িয়ে বলেন, অভিযোগ তিনি করেননি, তার ছেলে নজরুল করেছে।
ভুক্তভোগী রুহুল আমিন এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে রুহুল আমিনের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে এবং তাকে মানসিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ সাজানো হয়েছে। প্রকৃত চোরকে আড়াল করতেই কি এই নাটক?— এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পুরো লামনা গ্রামে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া শুধু সন্দেহের বশে একজন সম্মানিত মানুষের নামে থানায় অভিযোগ দেওয়া চরম অন্যায়। এর ফলে রুহুল আমিনের সামাজিক ও মানসিকভাবে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রুহুল আমিন ও স্থানীয় সচেতন সমাজ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সমাজের বিবেকবান মানুষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়। একই সাথে, মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে যারা মানহানি ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন