
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর গলাচিপায় এক গৃহবধূকে (৪৩) বসতঘরে একা পেয়ে যৌন পীড়ন, ধর্ষণের চেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী বাদী উরিয়া বেগম নিজে বাদী হয়ে পটুয়াখালীর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরণ ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামিরা এলাকায় প্রভাবশালী ও বেপরোয়া প্রকৃতির। অভিযোগমতে, ১ নম্বর আসামি মোঃ বসির মৃধা (৪৫) বাদীনীর সম্পত্তি গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তাকে দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে তিনি সম্মত না হওয়ায় আসামিরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং তার স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগ খুঁজতে থাকে।
গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (বুধবার) আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়ীয়া গ্রামে বাদীনীর নিজস্ব বসতঘরে আসামি একা পেয়ে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে ১ নম্বর আসামি ভুক্তভোগীকে যৌন পীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এতে বাঁধা দিলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাদীনীর পরিধেয় বস্ত্র ও ব্লাউজ ছিঁড়ে ফেলে এবং তাকে হাত, পা ও তলপেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে ২ নম্বর আসামি নাসির মৃধা (৫০) ঘটনাস্থলে এসে ১ নম্বর আসামির কথায় রাজী না হওয়ার অজুহাতে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বাদীনীকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর গত ১১ মে ২০২৬ তারিখ আনুমানিক বিকাল ৫টার দিকে ভুক্তভোগী নারী আইনি প্রতিকারের জন্য গলাচিপা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করায় তিনি বিজ্ঞ আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(৪)(খ)/১০/৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পিটিশনে উক্ত আবেদনটিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদানের জন্য বিজ্ঞ আদালতের নিকট আর্জি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা।
মন্তব্য করুন