
ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি:
ব্যক্তিগত সোনা ব্যবহারে (পরিধান বা রাখায়) এখন থেকে কোনো নতুন কর দিতে হবে না। তবে সোনা বিক্রি করে লাভ হলে সেই মুনাফার উপর ১৫% ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হবে। এটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংশ্লিষ্ট নিয়মে এসেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সোনার অলংকারকে এখন থেকে মূলধনি সম্পদ (ক্যাপিটাল অ্যাসেট) হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে সোনা বা সোনার গয়না বিক্রি করে যে মুনাফা হয়, তার উপর “১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স” আরোপ হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান রোববার অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ফোরামে (ইআরএফ) এক সেমিনারে এ তথ্য জানান। কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ট্যাক্স ফাঁকি রোধ করা। অনেকে ট্যাক্স রিটার্নে সোনা দেখিয়ে মূল্য উল্লেখ না করে অপ্রদর্শিত আয় লুকিয়ে রাখতেন। নতুন নিয়মে এই সুযোগ কমবে।
কীভাবে কর হিসাব হবে?
– অর্জন মূল্য (কেনা বা উত্তরাধিকারের সময়কার বাজার মূল্য) এবং বিক্রয় মূল্যর মধ্যে পার্থক্যকে মুনাফা ধরা হবে।
– ৫ বছরের বেশি ধরে রাখলে ১৫% ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স প্রযোজ্য।
– ৫ বছরের কম হলে সাধারণ আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী (সর্বোচ্চ ৩০-৩৫%) কর দিতে হতে পারে।
– অর্জনের প্রমাণ না থাকলে পুরো বিক্রয় মূল্যকেই মুনাফা ধরা হতে পারে।
এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের প্রথম সচিব মো. জাফর ইমাম বলেন, এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ইউরোপের অনেক দেশে প্রচলিত।
গুরুত্বপূর্ণ কথা:
– শুধু ব্যবহার বা পরিধানের জন্য কোনো কর নেই। বাড়িতে সোনা রাখার সীমা (যেমন বিবাহিত নারী ৫০০ গ্রাম ইত্যাদি) আগের মতোই আছে।
– উত্তরাধিকার বা উপহারের সোনার ক্ষেত্রেও নিয়ম প্রযোজ্য হবে বিক্রির সময়।
– জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ অনেকে এ নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বলছেন এতে আনুষ্ঠানিক লেনদেন কমতে পারে।
এই নিয়মটি “আয়কর আইনের সংশোধনীর” অংশ হিসেবে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং শীঘ্রই কার্যকর হবে। ট্যাক্সপেয়ারদের পরামর্শ: সোনা কেনা-বেচার সময় সঠিক দলিল ও মূল্য রেকর্ড রাখুন।
সূত্র: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, টিবিএস, আরটিভি অনলাইন (১৫ জুন ২০২৬)।
মন্তব্য করুন