
মাহ্ফুজ নবীন:
লেবুখালী হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পে রাতের বেলায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য না থাকায় অবৈধ পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চেক করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মহাসড়কে অবৈধ মালামাল পরিবহন অবাধ হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, চালক ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আধুনিক চেকিং মেশিন (স্ক্যানার ও ওয়েব্রিজ) বসানোসহ জনবল বৃদ্ধির জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লেবুখালী হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পটি বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থিত। দিনের বেলায় কিছুটা তৎপরতা থাকলেও রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত মাত্র কয়েকজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এই সীমিত জনবল দিয়ে বড় বড় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন থামিয়ে পুরোপুরি চেক করা সম্ভব হয় না। ফলে অবৈধ পণ্য, ওভারলোডেড ট্রাক এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সহজেই চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় ট্রাক চালক মো. রহিম (ছদ্মনাম) জানান, “রাতে ক্যাম্পে ৩-৪ জনের বেশি পুলিশ থাকে না। অনেক সময় ট্রাক আটকানোর পরও পুরো চেক করতে সময় লাগে। ফলে অনেকেই টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে চলে যায়। আধুনিক স্ক্যানার মেশিন থাকলে এসব সমস্যা অনেক কমে যেত।”
এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, অবৈধ পণ্য পরিবহনের কারণে স্থানীয় বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এছাড়া ওভারলোডেড ট্রাকের কারণে মহাসড়কের ক্ষতি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
পটুয়াখালী জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি বসানোর জন্যও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয় জনগণের দাবি— লেবুখালী ক্যাম্পে রাতের শিফটে জনবল বাড়ানো, সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক চেকিং মেশিন (ভেহিকল স্ক্যানার, ওয়েব্রিজ) দ্রুত বসানো। এতে শুধু অবৈধ পরিবহন বন্ধ হবে না, মহাসড়কের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য করুন