
-মাহ্ফুজ নবীন
বাংলাদেশের তিন দিকজুড়ে যদি চীনের মতো বিশাল একটি “বাংলা প্রাচীর” নির্মাণ করা হয়—তাহলে তা শুধু নিরাপত্তাই নয়, দেশের পর্যটন ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এনে দিতে পারে এক নতুন অধ্যায়। সীমান্তের অনিয়ন্ত্রিত পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অস্ত্র বা মাদক প্রবাহ রোধে এটি হতে পারে সবচেয়ে বড় মানবসৃষ্ট প্রতিরোধব্যূহ।
🔸 প্রাচীরের ধারণা:
চীনের মহাপ্রাচীর নির্মিত হয়েছিল হাজার বছর আগে সাম্রাজ্য রক্ষায়। আজকের বাংলাদেশে সেই ধাঁচের প্রাচীর মানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এক নিরাপত্তা বাঁধ। কংক্রিট, সেন্সর, নজরদারি টাওয়ার ও ড্রোন সিস্টেমসহ এমন এক প্রাচীর দেশের তিন পাশ—ভারত সীমান্ত ও মিয়ানমার অংশে তৈরি হলে তা হবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মানবনির্মিত প্রাচীর।
💰 সম্ভাব্য বাজেট ও সময়কাল
প্রাথমিক হিসেবে, চীনের মহাপ্রাচীরের দৈর্ঘ্য প্রায় “২১ হাজার কিলোমিটার। বাংলাদেশের তিন পাশের সীমান্ত মিলিয়ে মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার”।
প্রতি কিলোমিটারে আধুনিক নিরাপত্তা প্রাচীর, নজরদারি ব্যবস্থা, সেন্সর লাইন ও টহল অবকাঠামোসহ খরচ ধরা যায় গড়ে ৩০ কোটি টাকা।
👉 মোট ব্যয় দাঁড়াবে আনুমানিক ১.২ লক্ষ কোটি টাকা,
আর নির্মাণ শেষ হতে সময় লাগতে পারে ১০–১২ বছর।
পাচার ও নিরাপত্তা উপকারিতা:
বাংলাদেশে প্রতিবছর ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য ও গরু চোরাচালান হয়।
মাদক পাচার, মানবপাচার, অস্ত্র অনুপ্রবেশ—সব মিলিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যাহত হয়।
এই প্রাচীর নির্মাণ হলে—
* সীমান্তে অবৈধ প্রবেশ প্রায় ৮০–৯০% হ্রাস পেতে পারে,
* মাদক ও গরু পাচার কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে,
* এবং সীমান্তে নতুন অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পর্যটনে নতুন দিগন্ত:
প্রাচীর শুধু নিরাপত্তার দেয়াল নয়, হতে পারে পর্যটনেরও এক অপার বিস্ময়।
প্রাচীরের ওপর বা আশেপাশে তৈরি হতে পারে দর্শনীয় স্থান, “বাংলা গ্রেট ওয়াল” ভিউ পয়েন্ট, ঐতিহ্যবাহী কেল্লা মডেল, সাংস্কৃতিক ক্যাফে ও হোটেল জোন।
এর ফলে বছরে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন বাড়বে ৩০–৪০% পর্যন্ত।
নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে অন্তত দেড় লাখ মানুষের।
প্রধান চ্যালেঞ্জ:
তবে এর বড় বাধা অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একাধিক উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে যেখানে উভয় দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত করে। প্রাচীর নির্মাণ হলে সেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক কিছুটা ব্যাহত হতে পারে।
এ ছাড়া এত বিপুল বাজেটের প্রকল্প বাস্তবায়নে দরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক ঐকমত্য।
বিশ্লেষকদের মত:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,
“বাংলাদেশে চীনের ধাঁচে প্রাচীর গড়লে তা শুধু প্রতিরক্ষা নয়, আঞ্চলিক অর্থনীতিরও নতুন চেহারা আনতে পারে। তবে এটি শুরু করতে হবে ছোট পরিসরে—যেমন টেকনাফ, যশোর বা হিলি সীমান্তে পাইলট প্রকল্প হিসেবে।”
চীনের মহাপ্রাচীর ছিল এককালে সাম্রাজ্যের প্রতীক, বাংলাদেশের প্রাচীর হতে পারে নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের প্রতীক। যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রযুক্তি ও জনসমর্থন মেলে—তাহলে “বাংলা গ্রেট ওয়াল” একদিন হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার নতুন বিস্ময়।
মন্তব্য করুন