
মাহ্ফুজ নবীন:
বাংলাদেশের আইন অনুসারে, প্রমাণিত অপরাধী (convicted criminal)-এর ভিডিও চিত্রায়নের ক্ষেত্রে তার অনুমতি সাধারণত প্রাসঙ্গিক, তবে পুরোপুরি নির্ভর করে প্রসঙ্গ, উদ্দেশ্য ও প্রকাশের উপর।
আইন কী বলে?
সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ (ধারা ২৫): অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির (অপরাধীসহ) ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে, বিশেষ করে যদি তা “ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন, সেক্সটরশন বা ক্ষতিকর/ভীতি প্রদর্শক” উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে এটি অপরাধ। শাস্তি: অনধিক “২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়” (নারী/শিশু ভুক্তভোগী হলে শাস্তি বাড়তে পারে)। তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করে দ্রুত বিচারের বিধান রয়েছে।
“ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার”: বাংলাদেশের সংবিধান (অনুচ্ছেদ ৩২) এবং সাইবার/ডিজিটাল আইন অনুসারে, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন হতে পারে। এমনকি পুলিশ/সেনা চেকপোস্ট বা পাবলিক স্থানেও অনুমতি ছাড়া প্রচার অনৈতিক ও আইনবিরুদ্ধ বলে বিবেচিত হয়।
“পাবলিক ইন্টারেস্ট ও নিউজ কভারেজ”: সাংবাদিকতা বা জনস্বার্থে (যেমন আদালতের রায়, অপরাধের খবর) পাবলিক স্থানে বা আদালতে ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে অনুমতি সবসময় বাধ্যতামূলক নয়। তবে “ব্যক্তির মর্যাদাহানি না করে” এবং আইনি সীমার মধ্যে রেখে করতে হয়। জেলখানা বা সংবেদনশীল এলাকায় অনুমতি (জেল কর্তৃপক্ষ/আদালত) লাগতে পারে।
অন্যান্য আইন: পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এ অশ্লীল ভিডিও ধারণ/প্রচার নিষিদ্ধ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনেও গোপনীয়তা লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য।
”সারকথা”: শুধু ধারণ নয়, “প্রচার” এবং “উদ্দেশ্য” গুরুত্বপূর্ণ। নিউজ/জনস্বার্থে সতর্কতার সাথে করলে সমস্যা কম, কিন্তু ব্যক্তিগত/ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে হলে অপরাধ। অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও তার মৌলিক অধিকার (গোপনীয়তা, মর্যাদা) পুরোপুরি বিলুপ্ত হয় না।
এ বিষয়ে সাম্প্রতিক নিউজ/আলোচনা
২০২৬ সালের এপ্রিলে সংসদে সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে আলোচনায় “কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের” অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ অন্যরা দ্রুত তদন্ত ও বিচারের কথা বলেছেন।
- বিবিসি বাংলাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশ/সেনা চেকপোস্টে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার নিয়ে সমালোচনা হয়েছে — এটিকে গোপনীয়তা লঙ্ঘন বলা হয়।
- সাংবাদিকতায় পাবলিক স্থানে ভিডিওর অনুমতি নিয়ে বিতর্ক চলমান, কিন্তু ব্যক্তিগত/অশ্লীল প্রচার স্পষ্টতই অপরাধ।
“পরামর্শ”: নিউজ বা ডকুমেন্টারির জন্য আইনজীবী/মিডিয়া কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ নিন। জেল/আদালতে ধারণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া নিরাপদ। যেকোনো ক্ষেত্রে অপরাধীর মর্যাদাহানি এড়িয়ে চলুন।
মন্তব্য করুন