
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দশমিনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মাত্র এক বছরের নিজের সন্তানকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে হস্তান্তরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সন্তানকে অন্য পরিবারে তুলে দিয়ে পাওয়া সেই টাকা দিয়ে একটি দামি ‘আইফোন’ স্মার্টফোন কেনার গুরুতর অভিযোগ করেছেন শিশুটির স্বজনরা। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে।
পারিবারিক বিরোধ ও কৌশলে সন্তান নিয়ে যাওয়া:
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাছুয়াখালী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে মারুফের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলে আসছিল। দাম্পত্য বিরোধের কারণে দম্পতি আলাদা হয়ে গেলে এক বছরের শিশুপুত্র মুসাকে তার দাদি মাহফুজা বেগম নিজের কাছে রেখে পরম স্নেহে লালন-পালন করছিলেন। সম্প্রতি মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে কৌশলে শিশু মুসাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। দীর্ঘ সময় ধরে বাবা ও সন্তান বাড়িতে না ফেরায় স্বজনদের মধ্যে দুশ্চিন্তা শুরু হয়।
সন্তান বিক্রি ও আইফোন ক্রয়ের অভিযোগ:
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবার জানতে পারে, মারুফ তার শিশুপুত্রকে উপজেলার গয়নাঘাট গ্রামের ইমরান নামের এক ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে নেওয়া হয়েছে এক লাখ টাকা। স্বজনদের অভিযোগ, সন্তান হস্তান্তরের মাধ্যমে পাওয়া ওই অর্থের বড় একটি অংশ খরচ করে একটি আইফোন কিনেছেন মারুফ।
গ্রহীতার দাবি:
তবে সন্তান হস্তান্তরের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও আইফোন কেনা বা বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন গ্রহীতা ইমরান। তার দাবি, মারুফ বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। মারুফ ও তার স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে যাওয়ায় তিনি সন্তানকে লালন-পালন করতে পারছিলেন না। তাই দেনা পরিশোধ ও সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় লালন-পালনের জন্য শিশুপুত্রকে তার কাছে সমর্পণ করা হয়েছে।
দাদা-দাদির আকুতি ও ক্ষোভ:
ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম। আকুল কণ্ঠে তিনি বলেন, “ছেলের সাথে স্ত্রীর ঝামেলা থাকায় এই অবুঝ নাতিকে আমিই বুকে আগলে রাখতাম। অথচ আমার ছেলে ঢাকা থেকে এসে তাকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিলো! সেই টাকায় নাকি মোবাইল কিনেছে। আমি কোনো টাকা বুঝি না, আমার নাতিকে আমার কোলে ফিরিয়ে দিন এবং এই অমানবিক ঘটনার কঠোর বিচার চাই।”
শিশুটির দাদা মফিজ মুন্সি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেকোনো মূল্যে আমি আমার আদরের নাতিকে ফেরত চাই। নিজ সন্তানকে নিয়ে এমন বাণিজ্য করা মারুফ ও এতে সহায়তাকারী ইমরানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এলাকায় চাঞ্চল্য ও প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে পুরো দশমিনা উপজেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও জনক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিষ্পাপ এক বছরের শিশুকে এভাবে অর্থ বা দেনার বিনিময়ে হাতবদল করার ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয়রা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে তার প্রকৃত অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা নিশ্চিত করেছেন যে, শিশু মুসাকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির হেফাজতে ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন