
মাহ্ফুজ নবীন:
ভ্রাম্যমান সড়কের স্বপ্ন: বন্যা-প্রবণ চরাঞ্চলে এখনো অপূর্ণ:
বাংলাদেশের নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল, হাওর ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় “ভ্রাম্যমান (পোর্টেবল/মডুলার) সড়ক ও সেতু” নির্মাণের ধারণা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হলেও, তা এখনো নিয়মিত বাস্তবায়নে আসছে না। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA) এর মতো সংস্থা ২০০০-এর দশক থেকে পোর্টেবল স্টিল ব্রিজের মাস্টার প্ল্যান করলেও, দেশের বেশিরভাগ গ্রামীণ ও চর এলাকায় এখনো ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতেই সড়ক-সেতু নির্মাণ চলছে।
কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না?
বিশেষজ্ঞরা মূল কারণগুলো চিহ্নিত করেছেন:
১. অর্থায়নের অভাব: সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট চাহিদার তুলনায় অনেক কম। বছরে হাজার হাজার কিলোমিটার সড়ক মেরামতের দাবি থাকলেও, বরাদ্দ অপ্রতুল। ভ্রাম্যমান সড়কের মতো নতুন প্রযুক্তি আমদানি ও প্রশিক্ষণে অতিরিক্ত খরচ হয় বলে অগ্রাধিকার পায় না।
২. প্রযুক্তিগত ও দক্ষতার ঘাটতি: মডুলার স্টিল বা পোর্টেবল রোডের জন্য বিশেষায়িত প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের অভাব রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সীমিত।
৩. দুর্নীতি ও ঠিকাদারি সমস্যা: নিম্নমানের নির্মাণ, ওভারলোডিং এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সাধারণ সড়কগুলোই দ্রুত নষ্ট হয়। নতুন প্রযুক্তিতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা কঠিন বলে মনে করেন অনেকে।
৪. পরিবেশগত ও ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ: বন্যা, নদীভাঙন ও মাটির নরমতার কারণে স্থায়ী সড়ক টেকে না। ভ্রাম্যমান সড়ক এখানে আদর্শ হলেও, বাস্তবে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের বাইরে যায়নি।
৫. নীতিগত অগ্রাধিকার: সরকার মূলত নতুন সড়ক নির্মাণ ও কংক্রিট রোডের দিকে ঝুঁকছে। পোর্টেবল/মোবাইল সমাধানকে এখনো পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেখা হয়।
সম্ভাবনা ও সুপারিশ:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্রাম্যমান সড়ক চরাঞ্চলের কৃষক, শিক্ষার্থী ও জেলেদের জীবন বদলে দিতে পারে। বন্যার সময় সরিয়ে নেওয়া যায় বলে ক্ষয়ক্ষতি কমবে এবং খরচও সাশ্রয়ী হবে দীর্ঘমেয়াদে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, আন্তর্জাতিক সহায়তা (JICA, ADB ইত্যাদি) বাড়ানো এবং পাইলট প্রকল্পগুলোকে স্কেল-আপ করার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। অন্যথায়, প্রতি বন্যায় লাখ লাখ মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়বে।
সূত্র: JICA রিপোর্ট, সওজ-এলজিইডি তথ্য এবং স্থানীয় প্রতিবেদন।
মন্তব্য করুন