
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী জেলা সদরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বৈধভাবে সরকারি খাস জমি লিজ নিয়ে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজাহার আলী হাওলাদারের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও সপরিবারে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একটি স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। গত গতকাল (সোমবার) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নাম ভাঙিয়ে এই নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজাহার আলী হাওলাদার দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে সরকার থেকে নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্ত খাস জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি পটুয়াখালীর স্থানীয় কামাল গাজী (পিতা: মৃত এহসাক গাজী), ফারুক গাজী, শামীম ও লিটনসহ তাদের একদল সহযোগী রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে উক্ত জমিতে অবৈধ ও অনাধিকার প্রবেশ করে।
অভিযোগে প্রকাশ, অভিযুক্তরা রামদা ও লাঠিসোটা নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়িতে আকস্মিক হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা সত্তোরোর্দ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী হাওলাদারকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও বেধড়ক মারধর করে। এ সময় তাকে বাঁচাতে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও চড়াও হয় এবং এতে সপরিবারে তারা গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর চরম ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজাহার আলী হাওলাদার বলেন, “যে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য ১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলাম, আজ নিজ দেশেই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারী সন্ত্রাসীদের হাতে পরিবার নিয়ে রক্তাক্ত হতে হচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজাহার আলী হাওলাদার ও তার পরিবার সরকারের উচ্চপর্যায়ের দপ্তর, স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত কামাল গাজী, ফারুক গাজী, শামীম, লিটন ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তার জোর দাবি জানান।
মন্তব্য করুন