
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নিজ কর্মস্থল এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নেত্রকোনার আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইমরান হোসেন ঢাকার সাভারে নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইমরান হোসেন প্রতি বৃহস্পতিবার দাপ্তরিক কাজ শেষ করে সাভারের বাসায় চলে যান এবং শনিবার রাতে ফিরে আসেন। মাঝের কর্মদিবসগুলোতে তিনি ডাকবাংলোয় অবস্থান করেন। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এতে দুই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, ইমরান হোসেনের মূল পদায়ন আটপাড়া উপজেলায়। এছাড়া তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কেন্দুয়া উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খোলাবাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস), ধান-চাল সংগ্রহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর ও তদারকি অপরিহার্য। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতির কারণে নিয়মিত তদারকি না হওয়ায় অনিয়মের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক পয়েন্টে চাল ও আটা বিতরণ না করে আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।
ঈদুল আজহার ছুটি শুরুর আগে গত ২৩ মে অফিসের কাজ শেষ করে তিনি সাভারে চলে যান। অথচ সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৬ মে থেকে। ফলে ছুটির আগের তিন কর্মদিবস তিনি কর্মস্থলে ছিলেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন অফিস খোলার পরও পুরো সপ্তাহ তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। পরে ৭ জুন তিনি কর্মস্থলে ফেরেন।
আটপাড়া উপজেলা খাদ্য কার্যালয়ের উপখাদ্য পরিদর্শক শরীফা আক্তার প্রথমে অনুপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বলেন, ঈদের পর স্যার অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলেন। ৬ জুন কেন্দুয়ায় চাল সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফোনে তিনি রাতেই চলে আসেন। তিনি ঢাকায় থাকেন এবং এখানে এসে ডাকবাংলোয় অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করেন।
কেন্দুয়া খাদ্য কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঢাকায় বসবাস করে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করা বাস্তবে খুবই কঠিন। ফলে অনেক সময় তাঁকে অফিসে পাওয়া যায় না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইমরান হোসেন বলেন, ঈদের আগে দায়িত্ব পালন শেষে বাড়িতে গিয়েছিলাম। ঈদের পরও এসেছিলাম এবং দু-একদিন ডিউটি করে গেছি। আমি অসুস্থ ছিলাম। এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে সরাসরি কথা বলব। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম। ওই কর্মকর্তা আমাকে কিছু জানাননি। খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন