
রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ তিন ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয় এবং মৃত রোগীর লাশ প্রায় ১১ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার দিবাগত রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে রংপুর নগরীর নিউ জুম্মাপাড়া এলাকার নুরজাহান বেগম (৫৫)-কে হাসপাতালে নিয়ে যান তার ছেলে রিফাত হোসেন। স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো অক্সিজেন সরবরাহ না করায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, রোগীকে হাসপাতালে আনার পরপরই মৃত্যু হয় এবং চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল না।
মৃত্যুর পর দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন। এর প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগে কর্মবিরতি পালন করেন এবং মৃতের ছেলেকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসকদের চাপে রিফাত হোসেনকে হাসপাতালে এনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। এরপর তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। প্রায় ১১ ঘণ্টা পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজনরা এ ঘটনাকে অমানবিক ও অপমানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, রংপুর ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষমা প্রার্থনার পর লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
হাসপাতাল পরিচালকের বক্তব্য
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশিকুর রহমান ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মৃতের ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনাকে তিনি নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে। অনেকে চিকিৎসক-রোগীর স্বজনদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
(আরও তথ্য সংগ্রহ চলছে)
মন্তব্য করুন