
বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমসের নিরাপত্তা কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদার (৪০) হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। নিখোঁজের নয় দিন পর পরিত্যক্ত পুকুর থেকে ১৫ টুকরো মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রাকিব রায়হান ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফুলবাড়িয়ায় নিজ বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যেতেন। গত ২৩ জুলাই তিনি বাড়িতে আসার পর দিন—২৪ জুলাই বিকেল থেকে নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে ২৭ জুলাই তার বড় ভাই নূরুল ইসলাম স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডি দায়েরের পরপরই রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা রহস্যজনকভাবে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে গত ২ আগস্ট বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তিনটি ব্যাগ ও একটি চাদরে মোড়ানো রাকিবের ১৫ টুকরো ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্প্রতি সিলেটের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে প্রধান সন্দেহভাজন কেয়ারটেকার রাজু মির্জা এবং তার চাচাতো ভাই জিতুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাকিবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মূল আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জব্দকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে:
* একটি কাঠের খাটিয়া (মাংস কাটার খাইট্টা)
* একটি চাপাতি ও তিনটি ছুরি
* একটি লোহার রড
* একটি রক্তমাখা পাঞ্জাবি
পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরের ভেতর গরু কাটার কাঠের খাটিয়ার (খাইট্টা) ওপর রেখে রাকিবের দেহ নৃশংসভাবে ১৫ টুকরো করা হয়েছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অর্থের লোভকেই এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য, অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং অর্থ সংক্রান্ত লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন