
মাহ্ফুজ নবীন:
কয়েকদিন আগের কথা। হঠাৎ করে তার ফোন এলো। পরেরদিনই দেখা হলো। পটুয়াখালী যুব সংসদ ক্লাবের সামনে বসে কথা হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন খন্দকার কাজল ভাই।
তিনি আমার বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমি তাকে “মামা” বলে ডাকতাম। আঙ্কেলের চেয়ে “মামা” ডাকটা আমার কাছে অনেক বেশি আপন ও হৃদয়ের কাছাকাছি মনে হয়। তিনিও স্নেহের সাথে সাড়া দিতেন।
সেদিন কথা হয়েছিল একটা জিডির বিষয় নিয়ে। পরিপূর্ণ সমাধান হয়নি, কিন্তু তিনি খুব ধৈর্য ও স্নেহের সাথে কথা শুনেছিলেন। তারপর অনেক পুরনো স্মৃতিচারণ করেছিলেন। বাবার সাথে তাদের পুরনো দিনের গল্প, হাসি-ঠাট্টা, আর জীবনের নানা ঘটনা। কথা বলতে বলতে তার চোখে-মুখে একটা উষ্ণতা ফুটে উঠছিল। সেই মুহূর্তটা খুব সাধারণ মনে হয়েছিল, কিন্তু আজ বুঝতে পারছি — সেটাই ছিল তাঁর সাথে আমার শেষ দেখা।
কুরবানী ঈদের ঠিক কয়েকদিন আগে।
আজ হঠাৎ খবরটা এলো — তিনি আর নেই।
মামা, আপনি চলে গেলেন খুব অপ্রত্যাশিতভাবে। যে মানুষটা সবসময় হাসিমুখে কথা বলতেন, স্নেহের ছোঁয়ায় আগলে রাখতেন, তিনি আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। বাবার বন্ধু হিসেবে যে জায়গাটা পেয়েছিলাম, আজ তাকেও হারালাম! আজ বাবাও নেই আর নেই বাবার অন্যতম এক বন্ধু!
আমি শুধু মনে মনে বলি — আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। আপনার সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিন। আপনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
যারা তাঁকে ভালোবাসতেন, যাদের তিনি স্নেহ করতেন, সবাইকে ধৈর্য ধরার শক্তি দিন।
মামা, আপনাকে অনেক অনেক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।
আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন।
মন্তব্য করুন