

-মাহ্ফুজ নবীন
বাতাসে অনেক গ্যাস মিশে থাকে। সাধারণ শুষ্ক বাতাসের আনুমানিক অনুপাত:
– নাইট্রোজেন (N₂): ~৭৮%
– অক্সিজেন (O₂): ~২১%
– কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂): ~০.০৪%
– অন্যান্য (আর্গন, নিওন ইত্যাদি): ~১%
শরীর কোনো যান্ত্রিক ফিল্টার বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গ্যাস আলাদা করে না। বরং বিস্তারণ (Diffusion) নামক স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুধু অক্সিজেনকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করে।
ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া:
১. বাতাস প্রবেশ ও ফুসফুসে পৌঁছানো
নাক/মুখ → শ্বাসনালী → ব্রঙ্কাস → ব্রঙ্কিওল → অ্যালভিওলাই (ফুসফুসের ক্ষুদ্র থলি)।
অ্যালভিওলাই খুব পাতলা (মাত্র ০.৫ মাইক্রোমিটার) দেওয়ালযুক্ত এবং চারপাশে অসংখ্য রক্তনালী (ক্যাপিলারি) জড়িয়ে থাকে।
২. অক্সিজেন আলাদা হয়ে রক্তে প্রবেশ (Selective Diffusion)
– অ্যালভিওলাইয়ের ভিতরে অক্সিজেনের আংশিক চাপ (Partial Pressure) বেশি (~১০০ mmHg)।
– শিরায় আসা রক্তে (venous blood) অক্সিজেনের আংশিক চাপ কম (~৪০ mmHg)।
– ফলে অক্সিজেন উচ্চ চাপ থেকে নিম্ন চাপের দিকে স্বাভাবিকভাবে বিস্তারিত হয়ে রক্তে চলে আসে।
– রক্তের লোহিত কণিকায় “হিমোগ্লোবিন” অক্সিজেনকে শক্তভাবে বেঁধে রাখে।
নাইট্রোজেনের আংশিক চাপ রক্তে ও অ্যালভিওলাইয়ে প্রায় সমান, তাই তা খুব সামান্যই শোষিত হয় এবং প্রায় সবটাই নিঃশ্বাসের সাথে বেরিয়ে যায়।
৩. কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হওয়া:
শরীরের কোষগুলোতে খাদ্যের জারণ প্রক্রিয়ায় (Cellular Respiration) অক্সিজেন ব্যবহার হয় এবং প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়।
– কোষে CO₂ এর চাপ বেশি → রক্তে চলে আসে।
– ফুসফুসে আসা রক্তে CO₂ এর আংশিক চাপ (~৪৬ mmHg) অ্যালভিওলাইয়ের চেয়ে বেশি (~৪০ mmHg)।
– ফলে CO₂ রক্ত থেকে অ্যালভিওলাইয়ে বিস্তারিত হয়।
– নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় এই CO₂ সমৃদ্ধ বাতাস বেরিয়ে যায়।
সারণি (সহজ তুলনা):
| গ্যাস | বাতাসে অনুপাত | অ্যালভিওলাইয়ে চাপ | রক্তে চাপ (আসার সময়) | গতিবিধি |
|—————|—————-|———————|———————–|————————–|
| অক্সিজেন | ২১% | উচ্চ | নিম্ন | বাতাস → রক্ত |
| কার্বন ডাইঅক্সাইড | ০.০৪% | নিম্ন | উচ্চ | রক্ত → বাতাস |
| নাইট্রোজেন | ৭৮% | সমান | সমান | খুব সামান্য পরিবর্তন |
গুরুত্বপূর্ণ কথা:
– এই পুরো প্রক্রিয়া প্যাসিভ ডিফিউশন— কোনো শক্তি খরচ হয় না।
– ফুসফুসের বিশাল আয়তন (প্রায় ৭০ বর্গমিটার) এবং অত্যন্ত পাতলা দেওয়ালের কারণে গ্যাস বিনিময় খুব দ্রুত হয়।
– হিমোগ্লোবিনের বিশেষ গুণের জন্য অক্সিজেন সহজে বাঁধা পড়ে এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় ছাড়ে।
এই ব্যবস্থা এতটাই নিখুঁত যে সাধারণ অবস্থায় শরীর শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অক্সিজেন নেয় এবং অপ্রয়োজনীয় গ্যাস প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বের করে দেয়।
মন্তব্য করুন