
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীতে মায়ের জানাজায় প্যারোলে এলেন বিশ্বজিৎ হত্যার আসামি শাকিল২০১২ সালের বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল ২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট পটুয়াখালীতে মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে সাময়িক মুক্তি পান।** (আপনার পোস্টে ‘বাবার জানাজা’ বলা হলেও খবরে এটি মায়ের জানাজা হিসেবে উল্লেখিত।)
ঘটনার বিবরণ
সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) মাগরিবের সময় শাকিলের মা সাহিদা বেগম মারা যান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাদ আসর পটুয়াখালী শহরের করভবন জামে মসজিদের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। স্বজনদের সঙ্গে তিনি জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
শাকিলের বড় ভাই মো. শাহিন বলেছেন, তার ভাই ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’। মামলায় অনেক আসামি জামিন পেলেও তার ভাই পাননি। তারা একমাত্র বিএনপি পরিবার হওয়ায় হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। মায়ের মৃত্যুর সময় ভাইকে কাছে পাওয়া তাদের জন্য কষ্ট ও আবেগের বিষয় ছিল।
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার পটভূমি
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর পুরান ঢাকায় বিএনপি-জামায়াত জোটের অবরোধ চলাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা পথচারী দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে চাপাতি-লাঠি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তদন্তে শাকিলসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর নাম আসে। তদন্ত ও আদালতের প্রতিবেদনে শাকিলকে বিশ্বজিৎকে চাপাতি দিয়ে কোপানোর সঙ্গে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্ট রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। চারজনের সাজা যাবজ্জীবনে কমিয়ে দেয় এবং কয়েকজনকে খালাস দেয়। শাকিলের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এখনও আপিল বিভাগে ঝুলে আছে এবং তিনি কারাগারে আছেন।
এই ঘটনায় শাকিলের দীর্ঘ কারাবাস ও পারিবারিক করুণ অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে। খবরে তার বয়সের ছাপ, চুল-দাড়ি সাদা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি উল্লেখ না থাকলেও দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার প্রভাব স্পষ্ট। অপরাধ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে তার জীবনের এই পরিণতি অনেকের কাছে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়।
মন্তব্য করুন