

বিশেষ প্রতিনিধি, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের খারিজ্জমা গ্রামে পৈত্রিক জমি দখলের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বসতবাড়িতে সুপরিকল্পিত ও বর্বর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ১ জন নারী ও ৪ বছরের শিশুসহ অন্তত ৪-৫ জন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। হামলাকারীরা রামদা, লোহার পাইপ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহতদের হাত ভেঙে দেয় এবং মাথায় আঘাত করে। এ সময় বসতঘর ভাঙচুর করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।
গত ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেলে উপজেলার খারিজ্জমা গ্রামের বাদীর নিজ বসতবাড়ির সামনে ও ভেতরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আহতদের পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফিরোজা বেগম (৫২) বাদী হয়ে মোঃ সুজন মৃধা (২৮), সেলিম মৃধা (৬৫), মন্নান মৃধা (৫৮), মোঃ জামাল মৃধা (৫৯) ও মোঃ রহিম মৃধাসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও একাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গলাচিপা আমলী আদালতে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর: সি.আর. /২০২৬।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আসামীদের সাথে ভুক্তভোগী পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন বিকেল অনুমান ০৫:০০ ঘটিকায় আসামীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় মারণাগ্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও তর্কবিতর্ক শুরু করে। একপর্যায়ে ১নং আসামী মোঃ সুজন মৃধা রামদা দিয়ে বাদীর মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারলে বাদী ফিরোজা বেগম তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর ডান হাতের কবজিতে মারাত্মক কাটা জখম হয় এবং হাতের আঙুল ভেঙে যায়। পরে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তাঁর ভাঙা আঙুলে রড বসাতে হয়।
অন্যান্য আসামীরা লোহার পাইপ, জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১নং সাক্ষী কুদ্দুস মৃধার মাথায় গুরুতর আঘাত করে (যাতে ৮টি সেলাই লেগেছে)। এছাড়া হামলা থেকে রেহাই পায়নি ৪ বছরের শিশু মোঃ ওমরও। শিশুটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়।
হামলা শেষে আসামীরা বসতঘর পিটিয়ে আনুমানিক ৪৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। ঘরে থাকা ট্রাংক ভেঙে নগদ ৮০ হাজার টাকা, গলার ১ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন, ১টি রেডমি টাচ মোবাইল ফোন এবং নগদ ১০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনতাই করে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামীরা বিভিন্ন প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় (হাসপাতাল রেজিস্ট্রি নং: ৫৩৩২/১৩৯, ৫৩৩৫/১৪২, ৫৩৩৪/১৪১, ৫৩৪৭/১৫৪)। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আদালতে দণ্ডবিধির ১৪১/১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬ ধারায় বাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন বিজ্ঞ আইনজীবী মোঃ অ্যাকল্লোর বাসেন জুয়েল (অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট)।
বাদীর পক্ষের আইনি প্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সাথে জড়িত ১নং আসামী সুজন মৃধাসহ সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে সন্ত্রাসীদের অব্যাহত ভয়ে দিন কাটানো পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন