
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী সদর উপজেলার চর জৈনকাঠী এলাকায় গোরস্থানের জমিতে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ফিরোজ হাওলাদারসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহত ফিরোজ হাওলাদার বর্তমানে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ ৩১ অক্টোবর (শনিবার) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে চর জৈনকাঠী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোরস্থানের ১.৫ শতাংশ জমিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, গোরস্থানের জমিতে বেড়া দেওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে ফিরোজ হাওলাদারের মাথা ও নাকে গুরুতর আঘাত লাগে। মাথার আঘাতে তাঁর সাতটি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আহত অন্যরা হলেন—ফরিদা বেগম, ইয়াসিন, হৃদয় (পিতা: মইনউদ্দীন) এবং খলিল মোল্লা। অভিযোগ অনুযায়ী, দুই পক্ষের মারামারি থামাতে গিয়ে খলিল মোল্লাও আহত হন।
আহত ফিরোজ হাওলাদার চর জৈনকাঠী এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম হোসেন হাওলাদার।
এ ঘটনায় সরোয়ার, নাইম, অলি, শান্ত, চম্পা, হাসিনা ও হোসেন হাওলাদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
আত্মীয়তার সম্পর্কেও বিরোধের ছায়া
দুঃখজনক হলেও সত্য, ঘটনার বাদী ও বিবাদীরা পরস্পরের আত্মীয়। জানা গেছে, তাঁরা একই বাবার সন্তান হলেও তাঁদের মায়ের পরিচয় আলাদা। অর্থাৎ তাঁরা সৎভাই। পারিবারিক এই সম্পর্কের মধ্যেই জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেখানে তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গোরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশের তারিখ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬
মন্তব্য করুন