
মাহ্ফুজ নবীন:
ইসলামী ঐতিহ্য অনুসারে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতৃতুল্য বংশধারা (পিতার পিতার সিরিয়াল) আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত সংরক্ষিত আছে। তবে এটি তিনভাগে বিভক্ত:
– মুহাম্মাদ সা. থেকে আদনান পর্যন্ত: ঐতিহাসিকদের মতে এ অংশটি সর্বসম্মত ও নির্ভরযোগ্য।
- আদনান থেকে ইসমাইল ও ইবরাহিম পর্যন্ত: কিছু বৈচিত্র্য আছে।
- ইবরাহিম থেকে আদম পর্যন্ত: এ অংশটি বাইবেলীয়/ইসরাইলিয়াত ঐতিহ্যের সাথে মিলে যায়, কিন্তু সংখ্যায় কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
১. মুহাম্মাদ সা. থেকে আদনান (সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অংশ)
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
→ “আবদুল্লাহ”
→ “আবদুল মুত্তালিব” (শায়বা)
→ “হাশিম” (আমর)
→ “আবদ মানাফ” (আল-মুগীরা)
→ “কুসাই” (যায়দ)
→ “কিলাব”
→ “মুররা”
→ “কা’ব”
→ “লুয়াই”
→ “গালিব”
→ “ফিহর” (কুরাইশ)
→ “মালিক”
→ “আন-নাদর” (কায়স)
→ “কিনানা”
→ “খুযায়মা”
→ “মুদরিকা” (আমির)
→ “ইলিয়াস”
→ “মুদার”
→ “নিযার”
→ “মা’আদ”
→ “আদনান”
(এখানে প্রায় ২১-২২ পুরুষ।)
২. আদনান থেকে ইসমাইল (আ.) ও ইবরাহিম (আ.) (সাধারণত গৃহীত)
আদনানের উপরের অংশে সামান্য বৈচিত্র্য আছে। একটি সাধারণ ধারা:
আদনান → … → “কায়দার” (কেদার) → “ইসমাইল” (আ.) → “ইবরাহিম” (আ.)।
৩. ইবরাহিম (আ.) থেকে আদম (আ.)
এ অংশ বেশিরভাগ সূত্রে নিম্নরূপ (সংক্ষেপে):
ইবরাহিম (আ.) → তারিক/আযার → নাহুর → সারুগ/শারুঘ → রাউ → ফালিগ → আবির/হুদ → শালিখ/সালাহ → আরফাখশাদ → সাম → “নূহ” (আ.) → লামেক → মাতুশালাখ → আখনূখ (“ইদরিস” আ.) → ইয়ারিদ → মাহলাইল → কায়নান/কিনান → আনুশ/আনস → “শীস” (শেঠ আ.) → “আদম” (আ.)।
বিঃদ্রঃ
- আদনান পর্যন্ত বংশধারা ইবনে কাসীরসহ অনেক বিশেষজ্ঞের মতে “দিনের আলোর মতো স্পষ্ট”। তার উপরে কিছু বৈচিত্র্য থাকলেও মূল সারাংশ একই।
- নবীজি সা. নিজে বলেছেন যে আদনান পর্যন্ত গেলে আর এগোতে হবে না (কিছু বর্ণনায়)।
- এই বংশধারার মাধ্যমে তাঁর পূর্বপুরুষরা সবসময় বৈধ বিবাহের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তাওহীদের উপর ছিলেন বলে ইসলামী সূত্রে উল্লেখ আছে।
মন্তব্য করুন