
ঢাকা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের সদ্য গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে শিক্ষাগত যোগ্যতার চিত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরাসরি নির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে “২৪৭ জন” (প্রায় ৮৩ শতাংশ) স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা তার উচ্চতর ডিগ্রিধারী। এর মধ্যে রয়েছেন ১০ জন ডক্টরেট ডিগ্রিধারী।
তবে এই উন্নতির পাশাপাশি একটি বাস্তবতাও সামনে এসেছে। প্রায় “৪১ জন” এমপির শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক বা তার নিচে। এর মধ্যে এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন ১৫ জন, এইচএসসি পাস ১৭ জন এবং মাধ্যমিকের নিচে (আন্ডার মেট্রিক/স্বশিক্ষিতসহ) রয়েছেন প্রায় ৯ জন।
শিক্ষা ও গণপ্রতিনিধিত্বের সম্পর্ক
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদ সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেশের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের সংবিধানে এমপি হওয়ার জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংসদে প্রবেশের সুযোগ পান। এটি গণতন্ত্রের অন্যতম সৌন্দর্য বলে মনে করেন অনেকে।
তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)সহ বিভিন্ন সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা শিক্ষাগত যোগ্যতায় সরাসরি নির্বাচিতদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।
দলভিত্তিক চিত্র:
– বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী’র এমপিদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিতের হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
– স্বতন্ত্র ও ছোট দলের কয়েকজন এমপির মধ্যে নিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার হার কিছুটা বেশি।
জনমনে প্রতিক্রিয়া:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে অনেকে এই তথ্য নিয়ে আলোচনা করছেন। একদল বলছেন, “শিক্ষাগত যোগ্যতা একমাত্র মাপকাঠি নয়, জনসেবার মনোভাব ও অভিজ্ঞতাই আসল।” অন্যদল মনে করেন, “আধুনিক বিশ্বে জটিল আইন-কানুন প্রণয়নে উচ্চশিক্ষিত প্রতিনিধি বেশি কার্যকর হতে পারেন।”
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে হয়তো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে, যদিও সংবিধান সংশোধন ছাড়া তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় সংসদ সদস্যদের শিক্ষাগত বৈচিত্র্য প্রতিফলিত হয়েছে। তবে দেশের উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশনের হলফনামা ও টিআইবি বিশ্লেষণ)
মন্তব্য করুন