
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি:
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে গ্রেফতারের পর এক মুসলিম নারীকে জোরপূর্বক হিজাব খুলতে বাধ্য করার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ও সংক্ষুব্ধ নারীর সমঝোতার মধ্য দিয়ে দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে।
আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিল (CAIR-MI)-এর আইনি সহায়তায় ভুক্তভোগী হেলানা বোয়ে ২০২২ সালে মিশিগানের ফের্নডেল শহর কর্তৃপক্ষের সাথে এই সমঝোতায় পৌঁছান।
ঘটনার পটভূমি
২০২১ সালের ২১ জুন মিশিগানের ডেট্রয়েটের এইট মাইল রোডে হেলানা বোয়ে নামের ওই নারীকে থামায় ফের্নডেল পুলিশ। প্রাথমিক তল্লাশির সময় বোয়ে নিজ থেকেই পুলিশকে জানান যে, পূর্বের একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার পর থেকে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি ব্যাগে একটি টেজার (Taser) বা স্টান গান রাখেন। বৈধ পারমিট না থাকায় টেজার রাখার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
ধর্মীয় নীতি ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন
ফের্নডেল পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাটি আরও
বিতর্কিত রূপ নেয়:
* পুরুষ অফিসার কর্তৃক তল্লাশি: নারী পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও একজন পুরুষ অফিসার দিয়ে হেলানা বোয়ের দেহ তল্লাশি (Cross-gender search) করানো হয়।
* হিজাব খুলতে বাধ্য করা: ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা জানিয়ে বারংবার আকুতি করা সত্ত্বেও পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই তাকে হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয় এবং সেই অবস্থাতেই বুকিং ছবি (Mugshot) তুলে পুলিশের প্রকাশ্য ডাটাবেজে যুক্ত করা হয়।
আদালতের পদক্ষেপ ও সমঝোতা
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হেলানা বোয়ে প্রথমে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন এবং পরে মিশিগানের ফেডারেল আদালতে ফের্নডেল পুলিশ ও শহরের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের মামলা করেন।
২০২২ সালের মে মাসে সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়:
* নীতিমালা পরিবর্তন: ফের্নডেল পুলিশ বিভাগ তাদের বুকিং প্রক্রিয়ায় স্থায়ী পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত মুসলিম নারীরা ছবি তোলার সময় হিজাব বা ধর্মীয় পোশাক পরতে পারবেন এবং জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া কোনো পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তা নারী কয়েদির দেহ তল্লাশি করতে পারবেন না।
* আর্থিক ক্ষতিপূরণ: ভুক্তভোগী নারী মানসিক আঘাত ও ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট অংকের আর্থিক ক্ষতিপূরণও লাভ করেন।
মন্তব্য করুন