
-মাহ্ফুজ নবীন 
১৮ বছর ধরে যাদের মা-বাবা বলে জেনে এসেছেন, হঠাৎ একদিন জানতে পারলেন — তারা তাঁর জৈবিক বাবা-মা নন।এরপরই তাঁর পুরো পরিচয় বদলে দেওয়া হলো। জন্মনিবন্ধন, জেএসসি, এসএসসিসহ সব গুরুত্বপূর্ণ সনদে বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন নিজের আসল পরিচয়ের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাজশাহীর তরুণী ক্লাউডিয়া চৌধুরী।
ক্লাউডিয়া বলেন, জন্মের পর থেকেই তিনি ডা. শিপ্রা চৌধুরী ও প্রয়াত ডা. ওবায়দুর রহমান চৌধুরীকে নিজের মা-বাবা হিসেবে জেনে বড় হয়েছেন। তাঁদের আদর-যত্নে কেটেছে ১৮টি বছর। কিন্তু ২০২৩ সালের জুনে হঠাৎ তাঁকে জানানো হয় — তিনি দত্তক সন্তান।
তারপর থেকেই শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সংকট। তাঁর অজান্তেই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধনে বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করা হয়। ধাপে ধাপে শিক্ষাগত সনদসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রেও নতুন নাম যুক্ত করা হয়। কিন্তু যাদের নাম তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, ক্লাউডিয়া তাদের কখনো দেখেননি, চেনেন না এবং তাদের কোনো ছবি বা যোগাযোগের তথ্যও তাঁকে দেওয়া হয়নি।
এমনকি পরিবর্তিত জন্মনিবন্ধনে মা হিসেবে যাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই মোসা. টগরী বেগম নিজেই জানিয়েছেন, ক্লাউডিয়া তাঁর গর্ভজাত সন্তান নন। অন্যদিকে জৈবিক বাবা হিসেবে পরিচিত মো. বাবুল জানান, মেয়েটির বয়স যখন মাত্র ১১ মাস, তখন তাকে ভালোভাবে মানুষ করার আশ্বাস দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ বছর কোনো যোগাযোগ ছিল না।
ক্লাউডিয়ার অভিযোগ, এই সব পরিবর্তনের পর তাঁকে বাসা থেকেও বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আকুল কণ্ঠে বলেন,
“আমি শুধু জানতে চাই — আমি আসলে কে? কেন আমার পরিচয় এভাবে বদলে দেওয়া হলো? কেন আমাকে এত বছরের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলো?”
আইনজীবীরা বলছেন, জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য সরকারি নথিতে পরিচয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত ও আদালতের বিষয়। তবে মানবিক দিক থেকে এই ঘটনা অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
একজন মানুষ সম্পদ হারালে হয়তো আবার অর্জন করতে পারে, কিন্তু নিজের পরিচয় হারিয়ে গেলে সে কোথায় ফিরে যাবে? ক্লাউডিয়া চৌধুরীর এই প্রশ্নটি আজ অনেকের মনেই নাড়া দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন