
মাহ্ফুজ নবীন:
সাংবাদিকদের সুরক্ষায় এবং একই সঙ্গে অপব্যবহার রোধে আরও নতুন ও যুগোপযোগী আইন তৈরি হওয়া নিঃসন্দেহে পৃথিবীর জন্য কল্যাণকর হতে পারে। তবে সেটি নির্ভর করবে আইনের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যে।
আইন যদি হয় সাংবাদিকতার হাত শক্ত করার জন্য, তবে তা গণতন্ত্র ও সত্য প্রকাশের পথ সুগম করবে। কিন্তু আইন যদি তৈরি করা হয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মুখ বন্ধ করার জন্য, তবে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হবে।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ পৃথিবীর জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা যে ধরনের নতুন আইনি কাঠামোর প্রয়োজন মনে করেন:
১. সাংবাদিকদের সুরক্ষায় যেসব নতুন আইন কল্যাণকর
* হুইসেলব্লোয়ার ও তথ্যদাতা সুরক্ষা আইন (Whistleblower Protection): সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির তথ্য যে কর্মীরা সাংবাদিকদের দেন, তাদের চাকরিচ্যুতি বা শারীরিক ক্ষতি থেকে আইনি সুরক্ষার জন্য বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী আইনের প্রয়োজন।
* উৎসের গোপনীয়তার অধিকার (Source Protection Act): সাংবাদিকের তথ্যের মূল উৎস কে ছিল, তা কোনো রাষ্ট্র বা আদালত জোরপূর্বক প্রকাশ করতে বাধ্য করতে পারবে না—এমন আইন সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
* স্ল্যাপ (SLAPP) বিরোধী আইন: প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তিরা প্রায়ই সাংবাদিকদের মানসিক ও সামাজিকভাবে হেনস্তা করতে ভুয়া ও অযৌক্তিক কোটি টাকার মামলার (Strategic Lawsuits Against Public Participation) আশ্রয় নেন। এই ধরনের হয়রানি রোধে বিশ্বজুড়ে "Anti-SLAPP" আইন তৈরি করা জরুরি।
* ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নজরদারি বিরোধী আইন: পেগাসাসের মতো স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ফোন টেপ করা বা ডিজিটাল ট্র্যাকিং করা বন্ধে আন্তর্জাতিক আইনের কঠোর রূপরেখা প্রয়োজন।
২. কেন নিয়ন্ত্রণমূলক আইন তৈরি হওয়া ক্ষতিকর?
আইন প্রণেতারা বা রাষ্ট্র যদি "সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের জন্য" নতুন আইন তৈরি করে—যেমন সত্য প্রকাশে 'রাষ্ট্রদ্রোহ' বা 'জাতীয় নিরাপত্তার' ঢালাও অজুহাত তৈরি করা, তবে তা কোনোভাবেই কল্যাণ বয়ে আনবে না।
* এতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
* ক্ষমতাসীনদের অপরাধ ও দুর্নীতির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মতো কোনো মাধ্যম থাকবে না।
৩. ভারসাম্য রক্ষা: দায়িত্বশীলতা ও সত্য
একই সঙ্গে, ভূয়া খবর (Fake News), উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্ল্যাকমেইলিং এবং ভিউ-সর্বস্ব সাংবাদিকতা রোধে প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা বা বস্তুনিষ্ঠতার ওপর নীতিগত নজরদারির আইনি রূপরেখাও প্রয়োজন।
পৃথিবীর কল্যাণে নতুন আইন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেই আইন হতে হবে "সাংবাদিকদের ক্ষমতা ও সুরক্ষা বৃদ্ধির জন্য", তাদের বাক স্বাধীনতা কিংবা অনুসন্ধানের পথ রুদ্ধ করার জন্য নয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা যেখানে আইনি সুরক্ষায় মুক্তভাবে কাজ করতে পারেন, সেই সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি দুর্নীতিমুক্ত থাকে।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.