
মাহ্ফুজ নবীন:
উর্বর পলিমাটি, জলবায়ুর বৈচিত্র্য এবং বিপুল জনসংখ্যা—এ তিনটি উপাদানকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিগত কয়েক দশকে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের ভৌগোলিক অবস্থান, কৃষি উৎপাদন এবং শিল্প স্থাপনার ক্ষেত্রে যে নিজস্ব স্বকীয়তা ও সম্ভাবনা রয়েছে, কারিগরি শিক্ষা ও উপযুক্ত দক্ষতার অভাবে তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা।
বিভাগীয় অঞ্চল ভিত্তিক কৃষি ও শিল্প সম্ভাবনা
বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে উৎপাদন ও বিকাশের প্রচুর সম্ভাবনা বিদ্যমান:
* রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ: দেশের উত্তরাঞ্চল প্রধানত শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। ধান, গম, আলু, ভুট্টা এবং আম উৎপাদনে এ অঞ্চল শীর্ষে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলে কৃষি-ভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ (Agro-processing) শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
* ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ: হাওর বেষ্টিত এ অঞ্চলগুলো মৎস্য সম্পদ, ধান, চা বাগান এবং প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ। সিলেট অঞ্চলে পর্যটন ও প্রক্রিয়াজাত চা শিল্পের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
* ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ: গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, ভারী শিল্প, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স এবং সমুদ্র বন্দরকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র।
* খুলনা ও বরিশাল বিভাগ: দক্ষিণাঞ্চল মৎস্য (বিশেষ করে চিংড়ি চাষ), পাট, নারকেল এবং ম্যানগ্রোভ বনকেন্দ্রিক সম্পদ ও পর্যটন শিল্পে অগ্রগামী।
কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের অভাব ও উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা:
অঞ্চলভিত্তিক কৃষি ও শিল্পের এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে দক্ষ জনবলের অভাব ও আধুনিক কারিগরি শিক্ষার সদ্ব্যবহার না হওয়া।
১. ঐতিহ্যবাহী কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতি:
কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে এখনো সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা বেশি। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, স্মার্ট সেচব্যবস্থা এবং পোস্ট-হারভেস্ট (ফসল তোলার পর) প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য যে বিশেষায়িত কারিগরি শিক্ষা প্রয়োজন, মাঠপর্যায়ে কৃষক ও তরুণদের মাঝে তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে প্রচুর ফসল নষ্ট হয় এবং কাঙ্ক্ষিত মুনাফা আসে না।
২. শিল্প ও শিক্ষাব্যবস্থার সংযোগহীনতা (Industry-Academia Gap):
দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে প্রতিবছর হাজার হাজার সাধারণ ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থী তৈরি হলেও শিল্পকারখানার চাহিদানুযায়ী দক্ষ প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও মিড-লেভেল ম্যানেজার পাওয়া যায় না। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা দেশীয় অর্থের অপচয় ঘটায়।
৩. কারিগরি শিক্ষাকে কম প্রাধান্য দেওয়া:
সমাজ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে তরুণদের মধ্যে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার চেয়ে সাধারণ তাত্ত্বিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বেশি। অথচ আধুনিক বিশ্বে ভোকেশনাল স্কিলই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।
৪. আঞ্চলিক বৈষম্য:
ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পর্যায়ে উন্নত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং আধুনিক আইটি পার্ক থাকলেও সেগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা ও ইন্ডাস্ট্রি-লিংকড ট্রেইনিংয়ের অভাব রয়েছে।
সম্ভাবনার দ্বারে বাংলাদেশ: উত্তরনের উপায়:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলাকাভিত্তিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে নিচের পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত জরুরি:
* কৃষি-প্রযুক্তি শিক্ষা বিস্তার: উত্তরাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলে অঞ্চলভিত্তিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিকের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ওপর ব্যবহারিক কোর্স চালু করা।
* বিভাগীয় কারিগরি হাব নির্মাণ: প্রতিটি বিভাগের প্রধান শিল্পকে কেন্দ্র করে (যেমন: চট্টগ্রামে শিপবিল্ডিং/লজিস্টিকস, ঢাকায় টেক্সটাইল/আইটি, খুলনায় ফুড প্রসেসিং) বিশেষায়িত টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট তৈরি করা।
* কারিগরি শিক্ষার মানসিকতা পরিবর্তন: কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সামাজিকভাবে সম্মানিত করা এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি ফান্ডিং সহজ করা।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অপার। তবে শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ বা কাঁচামালের ওপর নির্ভর করে আধুনিক যুগে টিকে থাকা সম্ভব নয়। বিভাগীয় অঞ্চল ভিত্তিক কৃষি ও শিল্পের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (তরুণ জনগোষ্ঠী)-কে কাজে লাগাতে হলে ব্যাপকভিত্তিক কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.