
মাহ্ফুজ নবীন:
ভৌগোলিক বাস্তবতা, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, প্রযুক্তিগত বিপ্লব এবং অর্থনৈতিক উত্থান-পতনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ডেল্টা পরিকল্পনার আলোকে আগামী ১০০ বছরে বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় ও রূপান্তরমূলক গতিপথ নিচে তুলে ধরা হলো:
৫ বছর পর (২০৩১): এআই চালিত অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত ভিত্তি
* প্রযুক্তি ও শিল্প: পোশাক খাতের পর অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক সার্ভিস খাত বাংলাদেশের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। উচ্চ প্রযুক্তির ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে দেশ বিশ্বজুড়ে নতুন পরিচয় পাবে।
* অবকাঠামো: মেগাপ্রকল্পগুলোর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের কাজ শেষ হওয়ার মাধ্যমে ঢাকা আন্তর্জাতিক এভিয়েশন ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে উঠবে।
* চ্যালেঞ্জ: ডেটা ও সাইবার অবকাঠামো রক্ষা করা এবং তরুণ শক্তির জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
১০ বছর পর (২০৩৬): সুচিন্তিত সবুজ জ্বালানি ও স্মার্ট নগরায়ন
* জলবায়ু ও শক্তি: নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটবে; জাতীয় গ্রিডের প্রায় ৩৫-৪০% বিদ্যুৎ আসবে সৌর, বায়ুকল ও পরিবেশবান্ধব পরমাণু শক্তি থেকে।
* স্মার্ট ডেল্টা মোড: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলীয় টেকসই বাঁধ ও আধুনিক স্মার্ট ডেল্টা ব্যবস্থার প্রথম রূপ দেখা যাবে।
* নগর ব্যবস্থা: বিকেন্দ্রীকরণ নীতি সফল হওয়ায় রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রাম মেঘাসিটিতে রূপান্তরিত হবে, যা ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।
২০ বছর পর (২০৪৬): অটোমেশন, হাইপারলুপ ও ব্লু-ইকোনমি
* অর্থনৈতিক রূপান্তর: বাংলাদেশ উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ অতিক্রম করে উন্নত অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে পা বাড়াবে। বঙ্গোপসাগরের "ব্লু-ইকোনমি" ও সমুদ্র তলদেশের খনিজ সম্পদ হবে আয়ের অন্যতম উৎস।
* যোগাযোগ ব্যবস্থা: দেশের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে উচ্চগতির ম্যাগলেভ বা হাইপারলুপ ট্রেন নেটওয়ার্ক চালু হবে, যা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাতায়াতের সময় কমাবে ৩০ মিনিটে।
* কৃষি প্রযুক্তি: উল্লম্ব কৃষি (Vertical Farming) ও ল্যাব-গ্রোন ফুড প্রযুক্তির সাহায্যে কৃষিযোগ্য জমির সংকট দূর হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তায় আসবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা।
৩০ বছর পর (২০৫৬): স্মার্ট ডেল্টা ও অভিযোজনের স্বর্ণযুগ
* জলবায়ু অভিযোজন: বঙ্গোপসাগরের জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে তৈরি করা হবে কৃত্রিম ভাসমান বাঁধ ও ভাসমান শহরের অংশবিশেষ। সামুদ্রিক জমি পুনরুদ্ধারের (Land Reclamation) মাধ্যমে ভূখণ্ড কিছুটা সম্প্রসারিত হবে।
* প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ: বায়োটেকনোলজি ও নিউরো-লিংকড ডিভাইসের দৈনন্দিন ব্যবহারে মানুষ ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটবে। গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৮৫ বছরের ওপরে।
৪০ বছর পর (২০৬৬): বায়ো-টেক শহর ও ভাসমান জীবনধারা
* নতুন নগর ব্যবস্থাপনা: উপকূলীয় নিম্নঞ্চলগুলো পুরোপুরি "অ্যাকোয়া-সিটি" বা জলীয় নগরে রূপান্তরিত হবে। ঢাকার ওপর সমুদ্রের প্রভাব কাটাতে তৈরি হবে মেগা-ফ্লাড গেট।
* মহাকাশ ও আন্তর্জাতিক প্রভাব: গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মোড়েল হিসেবে প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশ নিজ কৃত্রিম উপগ্রহের পরবর্তী জেনারেশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করবে।
১০০ বছর পর (২১২৬): ২১০০ শতকের অভিযোজিত সুপার-ডেল্টা
* সংরক্ষিত ও সমৃদ্ধ ভূখণ্ড: শতবর্ষের জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্প ('ডেল্টা প্ল্যান ২১০০' ও পরবর্তী পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন) শেষ করে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সফল এবং নিরাপদ অভিযোজিত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
* ভার্সাটাইল লিভিং: প্রাকৃতিক শক্তির পরিপূর্ণ ব্যবহারে শূন্য-কার্বন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল উন্নত ভাসমান মেট্রোপলিস গড়ে উঠবে।
* নতুন বিশ্বব্যবস্থা: বাংলাদেশ আর কোনো ভৌগোলিক ঝুঁকির দেশ নয়, বরং পরিবেশ ও জলবায়ু ব্যবস্থাপনায় বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়া এক প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ ডেল্টা রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.