মাহ্ফুজ নবীন:
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার কল্যাণকলস গ্রামের পূর্ব কল্যাণকলস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে পরীক্ষা। স্কুল খোলা থাকলেও প্রধান শিক্ষক মোঃ হারুন ব্যক্তিগত কাজে আছে স্কুলের বাইরে। এমন পরিস্থিতিতে সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ঐ একই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা সুজিতা স্কুলের ভেতরেই প্রাইভেট পড়ান এবং প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত অনুপস্থিতিসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সহকারী শিক্ষিকা সুজিতা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে ২০০ থেকে ৫০০ শত টাকা করে নিচ্ছেন। এলাকাবাসী জানিয়েছে, তার প্রায় ১০ বছরের চাকরি জীবনে এমনটাই তিনি করে আসছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্কুলের ভেতরে কোচিং বা প্রাইভেট পড়িয়ে টাকা নেওয়া যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, “এটা করলে অসুবিধা কী?” তিনি আরও জানান, আগে বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতেন, এখন স্কুলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রাইভেট পড়ান—কখনো ছুটির আগে, কখনো পরে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কেন প্রাইভেট পড়ান? বাড়তি আয়ের পথ খুঁজছেন, নাকি শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য? নাকি স্কুলে নির্ধারিত সময়ে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না? সরকারি শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন না এলে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মুখস্থ বিদ্যা আর বাস্তবজীবনে কাজে না লাগা,তাই এমন শিক্ষা প্রাইভেট পড়িয়েও কতটা কাজে লাগবে ভবিষ্যতে—সে প্রশ্নও উঠছে।
বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকের সংকট রয়েছে। প্রধান শিক্ষক সম্পর্কে অভিযোগ, তিনি চরম পর্যায়ের ফাঁকিবাজ। তিনি পটুয়াখালী শহরে বসবাস করেন এবং দূরত্বের অজুহাতে প্রায়ই অনিয়মিতভাবে স্কুলে আসেন।
২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্কুলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়েই ব্যক্তিগত কাজে চলে গেছেন। মোবাইলে তথ্য চাওয়া হলে তিনি একজন লুঙ্গিপড়া কথিত সাংবাদিকসহ গ্রামের ২০-৩০ জনকে নিয়ে লাইব্রেরিতে হাজির হন। প্রশ্ন করা হলে তার জবাব ছিল—“তাতে কী হইছে?” যেন স্কুলের অনিয়ম অনুসন্ধান করাই মহা অপরাধ।
অভিযোগ রয়েছে, বাচ্চাদের খাবারের জন্য দেওয়া ডিম-রুটি প্রায়ই ভাগাভাগি করে শিক্ষকরা নিয়ে যায়। সহকারী শিক্ষিকার প্রাইভেট পড়ানো এবং প্রধান শিক্ষকের নানান অপকর্মের দুর্বলতা ও অনুপস্থিতি জানার পরই এই রকম আচরণ করছেন, বলে মনে করেন অনুসন্ধানকারীরা।
লুঙ্গিপড়া ওই ব্যক্তি নিজেকে কখনো সাংবাদিক, কখনো রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি এসাইনমেন্ট ছাড়া সংবাদ সংগ্রহ করাই যাবে না বলে মব সৃষ্টি করে, তার লোকজন নিয়ে। তখন প্রধান শিক্ষক খুশি মনে উপস্থিত দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। কথিত সাংবাদিক সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। অথচ তারই মুখে উচ্চারিত এসাইনমেন্টের শব্দের অর্থ কী জানতে চাওয়া হলে, তিনি উত্তর দিতে পারেননি। তাকে না জানিয়ে তার ইউনিয়নের কোথাও গেলে নাকি আজকের মতো, আবারও মব সৃষ্টি করবে। তা তিনি সরাসরি না বললেও বুঝিয়ে দিলেন৷ অথচ তার পৈত্রিক পরিচয়ও আছে কারো কারো ভিন্ন ভিন্ন অভিমত, আছে নানা বিতর্ক! সেই গোপন সত্য নিয়ে বহুজন বহুকথা বলছে। তাতে আমাদের আপত্তি না থাকলেও সরকারি রাস্তা ও বাঁধের জমিতে তারা পাঁকা দালান তৈরি করেছে, সেই জমি অসহায় মানুষের কাছে বিক্রি করে মহান সাজছেন; তখন নিজের অবৈধ দখল নিয়ে প্রশ্ন করলে কথিত সাংবাদিকের কষ্ট লাগে, আর তখনই সগৌরবে পরিচয় দেন, এবং বুঝিয়ে দেয় কোনো এক রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন, নানান অপকর্মে। অথচ রাজনৈতিক দলে তার কোনো অন্যায়ের দ্বায় কখনোই নেয়নি।
প্রাথমিক শিক্ষার এই চিত্র শুধু একটি স্কুলের নয়—বহু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তবতা। শিক্ষক সংকট, নিয়মিত উপস্থিতির অভাব, স্কুলের ভেতরেই বাণিজ্যিক প্রাইভেট কোচিং এবং খাবার নিয়ে অভিযোগ—এসবই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.