
ময়মনসিং প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ঘটনা এটি। ত্রিশালের কালীরবাজার এলাকায় বালুর ঘাটে ইজারাদারের এক কর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও থাপ্পড় মারার এই ঘটনাটি ঘটে, যা সিসিটিভি ফুটেজে ছড়িয়ে পড়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এক নাগরিককে সরাসরি থাপ্পড় ও শারীরিক আঘাত করছেন। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে একজন সাধারণ নাগরিকের প্রতি এমন আচরণকে ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু এখন আর আক্রান্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নেই। ভুক্তভোগী কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী নাকি সাধারণ নাগরিক—সে প্রশ্ন পেরিয়ে এখন মূল দাবি হয়ে উঠেছে আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার রক্ষা।
সাধারণ মানুষ ও বিশ্লেষকদের অভিমত, রাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা যখন নিজ ক্ষমতার প্রশাসনিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে একজন নাগরিকের ওপর হাত তোলেন, তখন তা কেবল ব্যক্তিগত অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি সার্বিকভাবে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও নাগরিকের মর্যাদার ওপর এক ধরনের আঘাত।
সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হওয়া একাধিক নাগরিক ও বিশিষ্টজনের দাবি:
* বদলি নয়, প্রকৃত শাস্তি: সাধারণত এমন ঘটনায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মকর্তাকে 'ওএসডি' বা অন্য জেলায় 'বদলি' করা হয়। তবে সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক বদলি কোনো স্থায়ী বা দৃষ্টান্তমূলক সমাধান হতে পারে না।
* নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি: ঘটনার পেছনের সত্যতা উদঘাটনে অবিলম্বে একটি প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
* আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা: অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধিমালা এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
> "আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কথা বলছি না—আমরা কথা বলছি দেশের একজন নাগরিকের মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনের পক্ষে। দলীয় পরিচয় কিংবা ক্ষমতার দাপট নয়, আইনের প্রয়োগই হওয়া উচিত সবার ঊর্ধ্বে।" — জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক প্রতিনিধিদের দাবি
>
প্রশাসনিক ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিরা যখন নাগরিকদের সুরক্ষার বদলে আঘাতকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তখন প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা সংকটে পড়ে। এই ঘটনার মাধ্যমে কি কোনো নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে, নাকি অন্য হাজারো ঘটনার মতোই একটি সাধারণ 'বদলি'-র মাধ্যমে বিষয়টি ঢাকা পড়বে—এখন সেটাই দেখার বিষয়। সুশীল সমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা এখন সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপের প্রতীক্ষায়।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.