আমতলী (বরগুনা) থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক খলিফা সাগর:
স্ত্রীর নিথর দেহের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বামী। পাশে অবুঝ দুটি শিশুসন্তান, কিন্তু এই কঠিন মুহূর্তে পাশে নেই বাপের বাড়ির বা শশুড়বাড়ির কোনো আত্মীয়-স্বজন। এক চরম একাকীত্ব আর শোকে বাকরুদ্ধ স্বামী আজ কেবলই জিজ্ঞেস করছেন—কী অপরাধ ছিল তাদের?
ঘটনাটি বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের গেরাবুনিয়া আলগি গ্রামের। গত বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) আনুমানিক দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে অভাব-অনটনের টানাফোড়নে বাধ্য হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সানজিদা আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধূ। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের প্রসারিবুনিয়া গ্রামের মোঃ আবু বক্কর তালুকদারের মেয়ে এবং গেরাবুনিয়া আলগি গ্রামের উজ্জ্বল তালুকদারের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটিতে তীব্র অভাব-অনটন চলছিল। টানাটানির সংসার চালাতে গিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন সানজিদা। অবশেষে ৩ বছরের এক মেয়ে এবং মাত্র দেড় বছরের এক ছেলেকে রেখে মৃত্যুর পথ বেছে নেন এই তরুণী গৃহবধূ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো গেরাবুনিয়া আলগি গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) জন্য মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।
রাত্রিকালীন সময়ে স্ত্রীর মরদেহের পাশে একাকী বসে থাকা স্বামী উজ্জ্বল তালুকদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
"আমার আর কিছু বলার নেই, আজ আমি বড্ড একা। আপনারা সবাই দেখুন, আমার স্ত্রীর মরদেহ পড়ে আছে অথচ পাশে আমি ছাড়া কেউ নেই। জানি না আমি আর আমার স্ত্রী কী এমন ভুল করেছিলাম! এই রাতে আমার শ্বশুরবাড়ির একটি মানুষও পাশে এসে দাঁড়ায়নি। আমার সঙ্গিনী আমাকে এবং ৩ বছর ও দেড় বছরের দুই অবুঝ সন্তানকে রেখে না ফেরার দেশে পাড়ি দিল।"
পুলিশ জানিয়েছে, পোস্টমর্টেমের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একজন সম্ভাবনাময় তরুণীর এই করুণ বিদায় এবং অবুঝ দুটি শিশুর মাতৃহীন হয়ে পড়া এলাকায় গভীর বিষাদের জন্ম দিয়েছে।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.