এম জাফরান হারুন:
পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি নথি ও আদালত সংশ্লিষ্ট মূল্যবান দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখলের অভিযোগে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. আবদুর রশিদ চুন্নু মিয়া ও তাঁর ছেলে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন সহ পাঁচ ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চলতি মাসের গত ২৪ জুলাই-২৬ ইং তারিখ পটুয়াখালী বিজ্ঞ বাউফল আমলী আদালতের নির্দেশে মামলাটি বাউফল থানায় এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার প্রধান আসামি হলেন- কাছিপাড়া গ্রামের মো. আবদুর রশিদ চুন্নু মিয়া (৮২)। তার সাথে তার পাঁচ ছেলে মো. মুনির হোসেন (৬৩), মো. কামাল হোসেন (৬৩), মো. জামাল হোসেন (৫৮), মো. ইকবাল হোসেন (৫৫) এবং এস.এম কবির হোসেন (৫৩) কেও আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগকারী হলেন একই এলাকার মৃত খলিলুর রহমান তালুকদারের ছেলে বিএনপি নেতা মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার (৬১)।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা সরকারি নথি ও মূল্যবান জামানত প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল করে ভুয়া ভূমি রেকর্ড তৈরি করেছেন। অভিযোগকারী দাবি করেন যে, তার পরিবার সূত্রে কাছিপাড়া ও দেওপাশা মৌজার বিভিন্ন খতিয়ানে ১০ একর ১৬ শতাংশ জমির মালিক ও ভোগদখলকারী। আসামিরা পটুয়াখালী যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতের একটি দেওয়ানি মামলার (মামলা নং ৬৭/২০১৩) ভুয়া ও কাল্পনিক রায়-ডিক্রি তৈরি করেন, যা প্রকৃতপক্ষে ২০১৮ সালেই খারিজ হয়ে গিয়েছিল। এই ভুয়া ডিক্রি ব্যবহার করে আসামিরা কনকদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে কাছিপাড়া ও দেওপাশা মৌজার বিশাল পরিমাণ জমি নিজেদের নামে জালিয়াতি করে নামজারি (মিউটেশন) করিয়ে নেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১৭ জুন আসামিরা কনকদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন খতিয়ান খোলেন। পরবর্তীতে ১৮ জুন কাছিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে আসামিরা অভিযোগকারী ও তার ওয়ারিশদের ভোগদখলীয় জমি নিজেদের বলে দাবি করেন এবং সেখানে চাষ করার জন্য হুমকি প্রদর্শন করেন। অভিযোগকারী পরবর্তীতে আদালত ও ভূমি অফিস থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি দণ্ডবিধির ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪২০ ধারা সহ 'ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩' এর ৪(২)/৭/৯/১৬ ধারায় রুজু করা হয়েছে। বাউফল আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলার আবেদনটি পর্যালোচনা করে বাউফল থানার অফিসার-ইন-চার্জকে এটি এফআইআর (FIR) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর স্বপন কুমার হালদারকে।
এদিকে, হয়রানি ও সম্মানহানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহাম্মদ জামাল হোসেন। তিনি দাবি করেন, 'মামলার বাদী একজন খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তিনি বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করেন। তার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন প্রতারণার মামলা চলমান রয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে তিনি যা-ই অভিযোগ করুন না কেন, আমরা বৈধ দলিল ও রেকর্ডের ভিত্তিতে নিজেদের সম্পত্তি দখলে রেখেছি। এছাড়া কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য তাকে এসিল্যান্ড ডাকলেও তিনি আসেননি। তার মামলার জবাব আমরা আদালতে দেব।'
এবিষয়ে বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'আদালতের নির্দেশে আমরা মামলাটি রেকর্ড করেছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।'(২৮/০৭/২০২৬)
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.