
মাহ্ফুজ নবীন:
পটুয়াখালীর জেলার গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ বশির কাজীর বিরুদ্ধে চরম স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্বহীনতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক, আবার বিয়ে পড়িয়ে হয়ে যান কাজী এমনকি রাজনৈতিক নেতাও।
স্কুল পরিচালনায় নিজের ইচ্ছামতো নিয়ম ভঙ্গ করে চলছেন বলে অভিযোগ। সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই স্কুল বন্ধ করে দেওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতায় ব্যাপক অনিয়ম এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র:
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, দুপুর ১টা ১০ মিনিটেই সরকারি নিয়ম অমান্য করে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নামানোর ন্যূনতম বিধিও মানা হয় না এই বিদ্যালয়ে।
পরদিন সকালে স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে আরও গুরুতর তথ্য বেরিয়ে আসে। বিদ্যালয়ে মোট ১৩ জন শিক্ষক থাকলেও গড়ে প্রতিদিন মাত্র ৫-৬ জন উপস্থিত থাকেন। বাকি শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতাও এক থেকে দেড় মাস ধরে সম্পূর্ণ অরক্ষিত। কোনো শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর বা তদারকির কোনো চিহ্ন নেই সেখানে।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য:
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ বশির কাজী ক্ষমতার দাপট দেখানোর চেষ্টা করেন। শিক্ষকদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,
“আমি আমার মতো শিডিউল করে শিক্ষকদের দিয়ে কাজ করিয়ে থাকি।”
শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতায় মাসের পর মাস স্বাক্ষর না থাকার বিষয়ে তিনি সদর্পে বলেন,
“এরকমটাই স্বাভাবিক বিষয়, তাতে কিছুই হয় না।”
দুপুর ১টায় স্কুল বন্ধ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন এবং বলেন,
উপজেলা শিক্ষা অফিসার বা জেলা শিক্ষা অফিসারকে বললেও আমার কিছু হবে না। আমি ছাত্রজীবন থেকে দেখে আসছি এই সময়েই স্কুল ছুটি হয়। পরীক্ষার সময় ৪৫ মিনিট ক্লাস হলে আমি ছুটি দেব না তো কী করব?”
সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে তিনি নিজের অনিয়ম ঢাকতে বিগত সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থার দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। তবে বর্তমান সময়েও কেন একই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন— এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
পরে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করে বলেন, তিনি চিকনিকান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ভবিষ্যতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন। এই পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের নিউজ না করার জন্য পরোক্ষ চাপ প্রয়োগ করেন।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া:
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক বশির কাজী ক্ষমতার জোরে কারও তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছামতো স্কুল চালাচ্ছেন। এতে স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি:
অবিলম্বে পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা অফিসার ও গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.