
মাহ্ফুজ নবীন:
পটুয়াখালী জেলায় সাব-রেজিস্ট্রারের (উপ-নিবন্ধক) সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে জমি রেজিস্ট্রেশন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। জেলা সদরে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন, মির্জাগঞ্জে একদিন, দুমকিতে একদিন এবং বাউফল, গলাচিপা, খেপুপাড়াসহ অন্যান্য উপজেলায় সপ্তাহে একদিন বা তারও কম সময় রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চলে। এতে জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রাররা একাধিক উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা ‘খ্যাপ মারার’ মতো একদিন এক থানায়, পরের দিন অন্য থানায় ঘুরে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। এতে দলিল প্রস্তুতি, যাচাই-বাছাই এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। অনেকে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও কাজ শেষ করতে পারছেন না।
জনগণের ভোগান্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি
জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত লেনদেন আটকে থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বায়না চুক্তির টাকা আটকে যাচ্ছে, ব্যাংক ঋণ বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা বলছেন, এই সংকটের কারণে জমির মূল্য স্থিতিশীল থাকছে না এবং বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
একজন স্থানীয় জমি ক্রেতা জানান, “সপ্তাহে একদিন অফিস খোলা, সেদিনও ভিড়ে কাজ হয় না। দালালদের ওপর নির্ভর করতে হয়, খরচ বাড়ে।” অনেকে অভিযোগ করেন যে, সীমিত দিনে কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত ‘সুবিধা’ দিতে হয়।
দেশব্যাপী সমস্যা: মানবসম্পদের ঘাটতি
পটুয়াখালী একক ঘটনা নয়। ঝিনাইদহ, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন জেলায় একই ধরনের সংকট দেখা যাচ্ছে। দেশের অনেক সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পূর্ণকালীন সাব-রেজিস্ট্রার নেই। একজন কর্মকর্তাকে একাধিক (কখনো তিনটি) অফিসের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে সেবার মান কমে, বিলম্ব বাড়ে।
বাংলাদেশে রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তরের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলো চলে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব, পদ শূন্যতা এবং ডিজিটালাইজেশনের ধীরগতি এই সমস্যাকে জটিল করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, রেজিস্ট্রেশনকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসলে এক জায়গায় সেবা (ওয়ান-স্টপ) সম্ভব হবে এবং যাচাইকরণ সহজ হবে। তবে এ নিয়ে আইনি জটিলতা ও বিতর্ক রয়েছে।
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ:
সীমিত সেবা দিন এবং জনবল ঘাটতির সুযোগ নিয়ে দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, এই ব্যবস্থা দুর্নীতিকে ‘জমজমাট’ করতে সহায়ক। সরকারি রাজস্বও কম আদায় হচ্ছে। পাশাপাশি জাল দলিল ও অবৈধ লেনদেনের ঝুঁকি বাড়ছে।
সরকারি উদ্যোগে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন, ই-পর্চা, অনলাইন মিউটেশনসহ ডিজিটাল সেবা চালু হলেও পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যা অব্যাহত।
সমাধানের পথ কী?
- পদ পূরণ: দ্রুত সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি।
- ডিজিটালাইজেশন: দলিল জমা, যাচাই ও রেজিস্ট্রেশন অনলাইনে সম্পূর্ণ করা।
- সমন্বয়: রেজিস্ট্রেশন ও ভূমি অফিসের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।
- স্থানীয় ব্যবস্থা: অস্থায়ীভাবে অতিরিক্ত কর্মকর্তা মোতায়েন বা মোবাইল রেজিস্ট্রি টিম গঠন।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা দ্রুত সমাধান চান। জমি সংক্রান্ত সেবা জনগণের মৌলিক অধিকার। এই সংকট অবিলম্বে নিরসন না হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.