মাহ্ফুজ নবীন:
বাংলাদেশের হাজার হাজার চরাঞ্চল এখনো মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। বন্যা, নদীভাঙন আর অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা প্রতিনিয়ত ব্যাহত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব চরে স্থায়ী সেতু সংযোগ ঘটতে এখনো "১৫-২৫ বছর" বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। এই অবহেলা কতদিন চলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বাংলাদেশের চরাঞ্চলের বাস্তবতা:
দেশে প্রায় "২,০০০-এর বেশি চর" রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলোতে লক্ষাধিক মানুষ বাস করে। পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার চরাঞ্চলে সড়ক ও সেতুর অভাবে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পাওয়া কষ্টসাধ্য। বন্যার সময় অনেক চর একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সরকারি প্রকল্পে কিছু সেতু নির্মাণ হলেও, সব চরে সংযোগের জন্য বিপুল বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, "২০৪১ সালের মধ্যে" ও সব চরে পূর্ণাঙ্গ সংযোগ সম্ভব নাও হতে পারে, যদি না অগ্রাধিকার বাড়ানো হয়। অবহেলার ফলে চরবাসীরা এখনো শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
জাপানের দ্বীপ-সংযোগের উদাহরণ: একটি মডেল:
জাপানে প্রায় "১৪,০০০টি দ্বীপ" রয়েছে (যার মধ্যে প্রায় ২৬০টিতে জনবসতি আছে)। দেশটি দ্বীপগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সেতু, টানেল ও ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে যুক্ত করেছে।
- সেতু ও টানেলের উদাহরণ:
- হোনশু-হোক্কাইডো: সেইকান টানেল (৫৩.৮৫ কিমি) — বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ আন্ডারওয়াটার টানেল।
- হোনশু-শিকোকু: তিনটি বড় সেতু সিস্টেম (সেতো ওহাশি ব্রিজ সিস্টেম) যা একাধিক দ্বীপকে যুক্ত করেছে।
- কিয়ুশু ও অন্যান্য: অসংখ্য ছোট-বড় সেতু এবং দ্রুত ফেরি সার্ভিস।
জাপানের এই ব্যবস্থা অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন ও জনজীবনকে সহজ করেছে। তারা দ্বীপগুলোতে আধুনিক সড়ক, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশও এই মডেল অনুসরণ করে চরাঞ্চলে "ভ্রাম্যমান/মডুলার সেতু" ও দ্রুত নির্মাণ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।
কী করা উচিত?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন:
- চরাঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেতু প্রকল্প নেওয়া।
- জাপান, চীন বা অন্যান্য দেশের সাথে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।
- মডুলার/পোর্টেবল সেতু প্রযুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন।
- চরবাসীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ।
চরাঞ্চলের মানুষ আর কতদিন অবহেলিত থাকবে — এ প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে সরকারি অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের উপর। দেরি হলে উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে দেশের এক বড় অংশ।
সূত্র: সওজ, এলজিইডি, JICA রিপোর্ট, জাপানের অফিসিয়াল দ্বীপ তথ্য এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রতিবেদন।

নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.