
মাহ্ফুজ নবীন
"একজন ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত বিচারের দাবিতে যতবার প্রয়োজন ততবার মামলা করতে পারেন, তবে আইনি সীমাবদ্ধতা ও যৌক্তিকতা আছে"
বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থায় (দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে) কোনো সরাসরি সংখ্যাগত সীমা নেই যে “একজন ব্যক্তি কতবার মামলা করতে পারবেন”। যদি কারো অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় বা অপরাধ ঘটে, তাহলে তিনি থানায় অভিযোগ বা আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। সংবিধানও ন্যায়বিচারের অধিকার স্বীকার করে। তবে:
- একই বিষয়ে বারবার মামলা: Res judicata (পূর্ববর্তী রায়ের পর একই দাবি) বা অন্যান্য নীতির কারণে নতুন মামলা টেকে না।
- মিথ্যা/অপ্রয়োজনীয় (frivolous/vexatious) মামলা: আদালত এগুলো খারিজ করতে পারে, বাদীকে জরিমানা বা শাস্তি দিতে পারে (দণ্ডবিধির ২১১ ধারা ইত্যাদি অনুসারে মিথ্যা অভিযোগের শাস্তি হতে পারে)।
- উচ্চ আদালতের নজরদারি: বারবার অপ্রয়োজনীয় মামলা করলে “vexatious litigant” ঘোষণা করে নতুন মামলা দায়েরে অনুমতি লাগতে পারে (যেমন অনেক দেশে হয়)।
“মামলাবাজ” ট্যাগ কতটা যৌক্তিক?
এটি আংশিক যৌক্তিক কিন্তু প্রায়ই অপব্যবহার হয়। যারা মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা বা হয়রানির উদ্দেশ্যে বারবার মামলা করে (মামলা বাণিজ্য, জমি দখল, টাকা আদায় ইত্যাদির জন্য), তাদের ক্ষেত্রে “মামলাবাজ” বলা যৌক্তিক। বাংলাদেশে এমন চক্রের খবর প্রায়ই আসে—যেখানে একই ব্যক্তি/চক্র বাদী-সাক্ষী হয়ে শতাধিক মিথ্যা মামলা করে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করে।
কিন্তু যারা বারবার ন্যায়ের জন্য লড়াই করে (যেমন দীর্ঘদিনের জমি-সম্পত্তি বিবাদ, বারবার অধিকার লঙ্ঘন, বা সরকারি হয়রানির বিরুদ্ধে), তাদের “মামলাবাজ” ট্যাগ দেওয়া অন্যায়। এটি প্রায়ই শক্তিশালী পক্ষ (প্রভাবশালী ব্যক্তি/গোষ্ঠী) দুর্বলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। মামলাজটের কারণে (বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ পেন্ডিং মামলা) সাধারণ মানুষের ন্যায় পাওয়া কঠিন হয়, কিন্তু তাই বলে অধিকার ত্যাগ করা যায় না।
এ বিষয়ে একটি নিউজ উদাহরণ:
বাংলাদেশে মামলাবাজ চক্রের খবর প্রায়ই আসে। উদাহরণস্বরূপ, চট্টগ্রামে একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যেখানে প্রবাসী, ব্যবসায়ীসহ নিরপরাধ ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে টাকা আদায় করা হয়। বাদীরা অজানা আসামিদের নামে মামলা করে পরে টাকার বিনিময়ে নাম কাটিয়ে দেয়। এ ধরনের “মামলা বাণিজ্য” নিরপরাধদের হয়রানি করে এবং আদালতের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করে। অনুরূপভাবে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় এমন সিন্ডিকেটের খবর পাওয়া যায়।
সারাংশ: ন্যায়ের জন্য মামলা করার অধিকার অসীম, কিন্তু অপব্যবহার করলে আইনি প্রতিকার আছে। “মামলাবাজ” ট্যাগ সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত—যাতে সত্যিকারের ন্যায়প্রার্থীদের না ঠেকানো হয়। মামলাজট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR), দ্রুত বিচার ও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি জরুরি।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.