
মাহ্ফুজ নবীন:
"শিক্ষা গ্রহণের কোনো বয়স নেই” — এই কথাটি আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষা শেষ করে চাকরির দরজায় পৌঁছালেই দেখা যায়, সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়মে বয়সসীমা কঠোরভাবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই অসঙ্গতি নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকে জীবনের মাঝপথে পড়াশোনা শুরু করে ডিগ্রি অর্জন করলেও চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ায় আবেদনের সুযোগই পান না।
সম্প্রতি বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ বা ৩২ বছরের ঊর্ধ্বসীমা বহাল রাখায় এই আলোচনা নতুন করে উঠেছে। একজন ৩৫ বছর বয়সী প্রার্থী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, “আমি পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে ২৮ বছর বয়সে স্নাতক শেষ করেছি। এখন এমএ পড়ছি। কিন্তু চাকরির আবেদন করতে গিয়ে দেখি বয়স চলে গেছে। এটা কেমন নিয়ম? শিক্ষা তো সারাজীবনের প্রক্রিয়া।”
বাস্তব চিত্র:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নিয়ম বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের সন্তানদের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকর। গ্রামাঞ্চলে অনেকে অর্থাভাবে সময়মতো পড়াশোনা শেষ করতে পারেন না। পরে যখন সুযোগ হয়, তখন বয়সসীমা তাদের পথ আটকে দেয়। বেসরকারি খাতেও অনেক কোম্পানি 'ফ্রেশার'দের জন্য ২৮-৩০ বছরের মধ্যে প্রার্থী খোঁজে।
শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল করিম বলেন, “শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে এই বয়সভিত্তিক বিভাজন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বিশ্বের অনেক দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অনেক নমনীয় বা একেবারেই নেই। আমাদের এখানে এখনও ঔপনিবেশিক আমলের কঠোর নিয়ম চলছে।”
দাবি উঠছে নমনীয়তার:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #বয়সসীমা_বাতিল এবং #শিক্ষার_বয়স_নেই হ্যাশট্যাগে আলোচনা তুঙ্গে। অনেকে দাবি করছেন, সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা ৪০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হোক বা বয়সের মেয়াদ তুলে দেয়া হোক এবং অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এই দিকে পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু সরকারি খাতে পরিবর্তন এখনও অনেক দূর।
একজন বেকার যুবকের কথায়, “আমি রাত জেগে পড়ে ডিগ্রি নিয়েছি। এখন চাকরি পাব না শুধুমাত্র জন্ম তারিখের কারণে? এটা শাস্তি নয়তো কী?”
সরকারি মহলে এখনও কোনো সাড়া না মিললেও, শিক্ষামন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে এই বিষয়ে লিখিত আবেদন জমা পড়ছে বলে জানা গেছে।
এই অযৌক্তিক নিয়ম কি পরিবর্তনের সময় এসেছে? দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীর ভাগ্য এখন এই প্রশ্নের উপর নির্ভর করছে।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.