মাহ্ফুজ নবীন:
পটুয়াখালী জেলা সদর জমি ক্রয় বিক্রয়ের সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের একমাত্র অফিস হচ্ছে জেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিস। এখানে দুর্নীতি নিয়ে না হয়, কথা না বললাম। কিন্তু এই একটি অফিসের কার্যক্রম দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভাড়া বাসায় কার্যক্রম চলছে। মূল ভবন পরিত্যাক্ত অনেক বছর ধরে। কয়েকটি সরকার পরিবর্তন হলেও এখানের মূল ভবন যে, কবে নাগাদ নতুন করে তৈরি হবে, তার নিশ্চয়তা এখন অনিশ্চিত।
এখানে অব্যবস্থাপনার কথা এত বিস্তৃত যে, বলে কয়ে, লিখে শেষ করা অসম্ভব! এই পটুয়াখালী সাব রেজিষ্ট্রী অফিসের মূল ভবন পরিত্যক্ত দীর্ঘ বছর ধরে।
এখানে রেজিষ্ট্রী কার্যক্রম কি চলছে না?
চলছে, তবে কিছু দিন পূর্বেও এই অফিসটি ছিলো পটুয়াখালী চৌরাস্তার কাছাকাছি একটি ভবনে। এখন চলছে রুস্তম মৃধা কালভার্ট সংলগ্ন মৃধা বাড়ির একটি ভবনে।
জানা যায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকা এই অফিসের ভাড়া গুনতে হয়, প্রতিমাসে। তাই জানতে ইচ্ছে হয় দীর্ঘ বছর ধরে যে পরিমাণ এই রেজিষ্ট্রী অফিসে ভাড়া বাবদ অপচয় হয়েছে, তাতে মনে হয় একটা নিজস্ব ভবন নতুন করে ক্রয় করাও যেত। আর এই অফিস ভাড়ার টাকাটা সরকারের কোন খাত দিয়ে দেয়া হয়েছে? সেটাও খতিয়ে দেখার একটা বিষয়!
যে সকল ব্যক্তিগণ দলিল করতে এসে দাখিলার প্রয়োজন, তাদের তো আবার আরো একটু দৌড়াদৌড়ি করে ৫ নং ওয়ার্ড এ অবস্থানরত ভূমি অফিস থেকে খাজনা দাখিলা নিয়ে আসতে হবে। তাই ভোগান্তি পৌঁছায় আরো চরম পর্যায়ে!
পটুয়াখালী রেজিষ্ট্রী অফিসের নিজস্ব ভবনের উন্নয়ন না করে ভাড়া অফিস নিয়ে অফিস চালাতে গিয়ে একে তো হচ্ছে রাষ্ট্রের টাকার অপচয়! অন্যদিকে তিনটি অফিসে একটি কাজের জন্য যাতায়াত তাতে সাধারণ মানুষের হয় মারাত্মক ভোগান্তি, সঙ্গে অযথা যাতায়াত খরচ এবং সময় অপচয়।
এই পটুয়াখালী রেজিষ্ট্রী অফিসে সকল দলিল লেখকদের নেই কোন বসার চেম্বার বা ঘর। অনেক দলিল লেখকগণ তাই ভাড়া বাসা বা দোকান ঘরে তাদের অফিসের কার্যক্রম চালাচ্ছে। নেই কোন সাধারণত জণগণের একটা বিশ্রামাগার, নূন্যতম একটু বসার স্থান, নেই খাবার কোন মান সম্মত হোটেল বা রেস্টুরেন্ট। এখানেই পুরোনো ভবনের পানির ট্যাংক থেকে পাহাড়ী ঝর্ণার দৃশ্য চলছে প্রায় সময়েই। এমন পানির অপচয় হওয়া স্বত্তেও কারো যেন কোন ভ্রুক্ষেপ নেই, নেই মাথা ব্যথা বা বন্ধ করার কোন আগ্রহ। অথচ এই পটুয়াখালী রেজিষ্ট্রী অফিসের বাউন্ডারির মধ্যেই পরিকল্পিত ভাবে এখানে সব কিছুই করা সম্ভব।
দ্বায় সারা এখনকার কমিটিরও নেই তেমন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড নিয়ে কথা বলার আগ্রহ। তাই লাগামহীন অনিয়ম আর বিশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরেই এখানকার বিশৃঙ্খল পরিবেশই এখন মানুষের অসহ্যের কারণ। তবুও জানতে চাওয়া, কবে হবে প্রতিকার?
তাই ৮ নং ওয়ার্ডে এই পটুয়াখালী রেজিষ্ট্রী অফিসের মূল ভবন আর ভাড়া নেয়া অফিসটি বর্তমানে ৯ নং ওয়ার্ডে। একটা দলিল রেজিষ্ট্রী করণ প্রক্রিয়ায় এই ৮ আর ৯ নং ওয়ার্ড, কখনো ভূমি অফিস ৫ নং ওয়ার্ডে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে সকল দলিল লেখকগণসহ সকল দলিল দাতা গ্রহিতার এই চরম ভোগান্তির অবসান এখন পটুয়াখালীবাসীর দাবী।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.