নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীতে একটি নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং (ছাদ) খুলতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের প্রতিক্রিয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এক রাজমিস্ত্রি ও তাকে বাঁচাতে যাওয়া এক যুবকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে পটুয়াখালী জেলার কমলাপুর ইউনিয়নের চৌদ্দভুরিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ওই গ্রামের রাজমিস্ত্রি জাফর এবং তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারানো প্রতিবেশী যুবক নুহু। মাত্র ১৭ দিন আগে বিয়ে করা নুহুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দভুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল সিকদার আজ থেকে প্রায় ৩ মাস আগে তার ঘরের দক্ষিণ পাশে একটি সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ সকালে ওই ট্যাংকের ভেতরের সেন্টারিং বা কাঠের ছাদ খোলার কাজ চলছিল।
কাজের একপর্যায়ে রাজমিস্ত্রি জাফর ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ওপরে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিস্তিরির ছেলে। জাফর ভেতরে নামার কিছুক্ষণ পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির লোকজন ও আশপাশের মানুষ চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশী যুবক নুহু দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং জাফরকে বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্যাংকের ভেতরে নেমে যান।
ভেতরে নেমে নুহু অচেতন হয়ে পড়া রাজমিস্ত্রি জাফরকে রশি দিয়ে বেঁধে ওপরে পাঠাতে সক্ষম হলেও, বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় নিজে আর ওপরে উঠতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি ট্যাংকের ভেতরের বিষাক্ত পানিতে পড়ে তলিয়ে যান।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা ট্যাংক থেকে নুহু ও জাফরকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তারা চিরতরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। কিছুক্ষণ আগের হাসিখুশি পরিবেশ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়। একই সাথে দুই প্রতিবেশীর এমন অকাল ও করুণ মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। এলাকায় এখন শুধুই কান্নার রোল আর মাতম।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সেপটিক ট্যাংকে পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন না করে এবং ভেতরে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস আছে কি না তা পরীক্ষা না করেই নামার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটু অসচেতনতার কারণেই আজ দুটি তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.