মাহ্ফুজ নবীন:
জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে আইনজীবী, ডাক্তার, পুলিশ, সামরিক বাহিনী বা বিচারকদের মতো নির্দিষ্ট পেশাগত পোশাক (dress code) থাকলে অনেকেই মনে করেন তা শৃঙ্খলা, গাম্ভীর্য ও সম্মান বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
বর্তমান অবস্থা:
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিক কোনো বাধ্যতামূলক ড্রেস কোড নেই।
- পুরুষ এমপিরা সাধারণত পাঞ্জাবি-পাজামা, শার্ট-প্যান্ট বা স্যুট পরেন।
- নারী এমপিরা সাধারণত শাড়ি পরেন।
- কিন্তু সময়ে সময়ে বিভিন্ন বিতর্ক হয়েছে (জার্সি, লুঙ্গি, অতিরিক্ত আধুনিক/প্রকাশ্য পোশাক ইত্যাদি)।
আপনার প্রশ্নের যুক্তি:
* পক্ষে যুক্তি:
- সংসদ একটা "পেশাদার প্রতিষ্ঠান"। এখানে পোশাকের মাধ্যমে শালীনতা, গাম্ভীর্য ও জনপ্রতিনিধিত্বের মর্যাদা প্রকাশ পাওয়া উচিত।
- অনেক দেশে (ভারত, পাকিস্তান, ইউকে ইত্যাদি) সংসদে অনানুষ্ঠানিকভাবে হলেও শালীনতার নিয়ম মানা হয়।
- যদি পোশাক নিয়ে বারবার বিতর্ক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে থাকে, তাহলে এটা জনগণের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
* বিপক্ষে যুক্তি:
- এমপিরা জনগণের প্রতিনিধি। তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য থাকা উচিত।
- পোশাক নিয়ে অতিরিক্ত নিয়ম করলে তা ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে বিবেচিত হতে পারে।
- মূল বিষয় পোশাক নয়, "যোগ্যতা, আচরণ ও কাজের মান"।
আমার মত:
একেবারে সামরিক বা পুলিশের মতো ইউনিফর্ম না হলেও, ন্যূনতম শালীনতার নিয়ম (যেমন: কোনো অতিরিক্ত প্রকাশ্য, অশ্লীল বা অপেশাদার পোশাক না পরা) থাকা উচিত। স্পিকারের নির্দেশনা বা সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে একটা "গাইডলাইন" করা যেতে পারে, যাতে সবাই মেনে চলতে পারেন।
জেবা আমিনের পোশাক নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছে, তা অনেকের মধ্যে এই অনুভূতি জাগিয়েছে যে সংসদকে আরও গম্ভীর ও সম্মানজনক রাখতে হবে।
আপনি কী মনে করেন? শুধু নারী এমপিদের জন্য আলাদা নিয়ম, নাকি সবার জন্য একই গাইডলাইন হওয়া উচিত?
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংসদে ড্রেস কোডের কিছু উদাহরণ:
অনেক দেশে সংসদকে "গাম্ভীর্যপূর্ণ ও পেশাদার" প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয় বলে আনুষ্ঠানিক বা আধা-আনুষ্ঠানিক ড্রেস কোড রয়েছে। কিছু দেশে এটি লিখিত নিয়ম, আবার কিছুতে স্পিকারের নির্দেশনা ও প্রথা অনুসারে চলে।
কঠোর বা বিস্তারিত ড্রেস কোড আছে এমন দেশ:
- কেনিয়া: পুরুষদের জন্য কোট, টাই, লম্বা হাতার শার্ট, ট্রাউজার্স। নারীদের জন্য ফর্মাল বিজনেস ওয়্যার (স্কার্ট হাঁটুর নিচে)। নিয়ম না মানলে স্পিকার বের করে দিতে পারেন।
- জাম্বিয়া: পুরুষদের জন্য ফর্মাল স্যুট/সাফারি স্যুট/টাই সহ জ্যাকেট। নারীদের জন্য ফর্মাল ড্রেস বা স্কার্ট স্যুট (হাঁটুর নিচে)।
- উগান্ডা: পুরুষদের জন্য স্যুট/টাই বা ঐতিহ্যবাহী কানজু। নারীদের জন্য ফর্মাল ড্রেস/জ্যাকেট।
- ফ্রান্স: (অ্যাসেম্বলি ন্যাশনাল): ২০১৮ থেকে নিয়ম — নিরপেক্ষ, শহুরে ফর্মাল পোশাক। ধর্মীয় চিহ্ন, ইউনিফর্ম, রাজনৈতিক স্লোগান/লোগো নিষিদ্ধ।
মাঝারি/প্রথাগত ড্রেস কোড:
- যুক্তরাজ্য (হাউস অফ কমন্স): বিজনেস অ্যাটায়ার। পুরুষদের জ্যাকেট বাধ্যতামূলক, টাই “উৎসাহিত” করা হয় (আগে বাধ্যতামূলক ছিল)। জিন্স, টি-শার্ট, ট্রেনার্স নিষিদ্ধ। স্পিকার নিয়ম প্রয়োগ করেন।
- অস্ট্রেলিয়া: ফর্মাল বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (জ্যাকেট-টাই)। স্পোর্টসওয়্যার নিষিদ্ধ।
- কানাডা: কনটেম্পোরারি বিজনেস অ্যাটায়ার। পুরুষদের জ্যাকেট-টাই, বিশেষ অনুষ্ঠানে কিল্ট অনুমোদিত।
- নিউজিল্যান্ড: বিজনেস অ্যাটায়ার (টাই-জ্যাকেট প্রত্যাশিত)।
- সুইজারল্যান্ড: “ডেকোরাস” (শালীন) পোশাক — পুরুষদের জ্যাকেট-টাই।
তুলনামূলকভাবে শিথিল:
- ভারত (লোকসভা/রাজ্যসভা): কোনো কঠোর লিখিত ড্রেস কোড নেই। ধোতি-কুর্তা, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, স্যুট সবই চলে। শুধু শালীনতা ও সংসদের মর্যাদা বজায় রাখতে হয়। রাজনৈতিক স্লোগানযুক্ত পোশাক নিষিদ্ধ।
- ইসরায়েল (কনেসেট): শালীন পোশাক। শর্টস, ফ্লিপ-ফ্লপ, স্লোগানযুক্ত জামা নিষিদ্ধ।
- বাংলাদেশ: জাতীয় সংসদে কোনো লিখিত বাধ্যতামূলক ড্রেস কোড নেই। পুরুষরা সাধারণত পাঞ্জাবি/শার্ট-প্যান্ট, নারীরা শাড়ি পরেন। শালীনতা বজায় রাখার প্রথা আছে।
সারাংশ:
বেশিরভাগ দেশেই বিজনেস ফর্মাল বা সমমানের শালীন পোশাক প্রত্যাশিত, যাতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয়। কিছু দেশে (বিশেষ করে আফ্রিকার কয়েকটি) নিয়ম খুব স্পষ্ট ও কঠোর, আবার ইউরোপ-উত্তর আমেরিকায় প্রথা ও স্পিকারের বিবেচনার উপর বেশি নির্ভর করে।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.