চুল ঝরে পড়ার সমস্যা কম-বেশি অনেকেরই দেখা যায়। এর মধ্যে কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায়, মাথায় হাত দিলেই উঠে আসছে গোছা গোছা চুল। চিরুনি দিলেও একই চিত্র। বালিশে, বাথরুমে সব জায়গায় চুল।
আজকাল চুল পড়ার এই গভীর সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। চুল পড়া এমন এক সমস্যা, যা ধীরে ধীরে শুরু হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর এর নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো ‘ডিএইচটি’।
এটি মূলত একটি অ্যান্ড্রোজেন হরমোন যা টেস্টোস্টেরন থেকে উৎপন্ন হয়। যখন শরীরে এই হরমোনের প্রভাব বেড়ে যায়, তখন এটি চুলের ফলিকলগুলোকে সংকুচিত করে দেয়, যাকে বলা হয় ‘ফলিকুলার মিনিয়েচারাইজেশন’।
১. ‘ডিএইচটি’ আসলে কী?
ডিএইচটি বা ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন একটি হরমোন, যা আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই তৈরি করে। নারী-পুরুষ উভয়ের শরীরেই থাকা এই হরমোন সাধারণত উৎপন্ন হয় টেস্টোস্টেরন থেকে।
শরীরে লোম বৃদ্ধি থেকে পুরুষদের কণ্ঠস্বর ভারী হওয়া, এই হরমোন বয়ঃসন্ধিকালে সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ‘ডিএইচটি’ খারাপ নয়, সমস্যা শুরু হয় যখন চুলের গোড়া এই হরমোনের প্রতি অতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
২. ‘ডিএইচটি’ হেয়ার লস কী?
ডিএইচটি হেয়ার লস বা অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া তখন হয়, যখন ডিএইচটি চুলের ফলিকলে গিয়ে সেটিকে ধীরে ধীরে সংকুচিত করে। ফলে—
এটিকেই আবার ‘জেনেটিক হেয়ার লস’ বলা হয় কারণ ডিএইচটি-এর প্রতি সংবেদনশীলতা সাধারণত বংশগত কারণে আসে।
৩. কেন ডিএইচটি চুল ঝরায়?
চুলের ফলিকলকে ছোট কারখানার মতো ভাবলে, ‘ডিএইচটি’ সেখানে গিয়ে ধীরে ধীরে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। ফলে—
শেষ পর্যন্ত সেই জায়গায় চুল ওঠা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে উঁকি মারে টাক। এটিকে ধীরে ধীরে ঘটে চলা একটা প্রক্রিয়া বলা যেতে পারে।
৪. কীভাবে বুঝবেন এটি ‘ডিএইচটি’ হেয়ার লস?
ধীরে ধীরে চুল পাতলা হওয়া এর বড় লক্ষণ। হঠাৎ বেশি চুল পড়া নয়, বরং সময়ের সঙ্গে চুলের ঘনত্ব কমতে থাকে। হেয়ারলাইন পিছিয়ে যায়, বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে। বিশেষত কপালের দুপাশ থেকে ‘M’ আকৃতি তৈরি হয়। মাথার উপরের অংশে চুল কমে যেতে থাকে। ক্রাউন বা মাথার মাঝখানে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া।
মহিলাদের ক্ষেত্রে সিঁথি চওড়া হতে থাকে। পনিটেল আগের চেয়ে পাতলা লাগে বা সিঁথি বড় দেখায়। চুলের গঠন বদলে যায়। মোটা চুল ধীরে ধীরে নরম ও পাতলা হয়ে যায়। পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও এমনটা হয়। পরিবারে কারো টাক বা চুল পাতলা হওয়ার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি আরও বেশি।
সাধারণ চুল পড়া থেকে পার্থক্য হতে শুরু করে। প্রতিদিন ৫০–১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু ডিএইচটি হেয়ার লস—এর ক্ষেত্রে তা ধীরে ধীরে বাড়ে। নির্দিষ্ট অংশে চুল কমায়। একটা সময় পরে আর নতুন চুল আর গজায় না।
৫. কীভাবে নিশ্চিত হবেন?
৬. এটি কি বন্ধ করা সম্ভব?
পুরোপুরি ‘ডিএইচটি’ বন্ধ করা যায় না, তবে এর প্রভাব কমানো যায়। ‘ডিএইচটি’ ব্লকার ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলের জন্য বিশেষ টপিক্যাল চিকিৎসাও কার্যকরী। সুষম ডায়েট ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ রাখাটাও জরুরি। যত দ্রুত সমস্যা ধরা পড়বে, তত ভালো ফল মিলবে।
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.