ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ঈদের দিন ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত শিপন মিয়া (১৮) নামে এক তরুণ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আযম।
এর আগে গত রোববার (৩১ মে) উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী ও মরিচারচর গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঈদের দিন বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে ফুচকা বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের কিশোরদের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে ফুচকা ও অন্যান্য খাবারের দোকানে ভিড় ছিল। এ সময় চরআলগী ও মরিচারচর গ্রামের কিশোরদের মধ্যে ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে অর্ডার দেওয়া ও পরিবেশন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে রাতে সংঘর্ষের জের ধরে আরও হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নিহত শিপন মিয়া মরিচারচর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে।
এদিকে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মরিচারচর গ্রামের মো. ইব্রাহিম মিয়া আহত হন বলে জানা গেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাকে ডেকে নিয়ে হামলা করা হয় এবং তার কাছ থেকে নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই হামলার সময় একটি বিয়ের আয়োজনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রান্না করা খাবার, আসবাবপত্র ও প্রস্তুতকৃত আয়োজন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠান বিঘ্নিত হয় এবং পরে ভিন্নভাবে সম্পন্ন করতে হয়।
নাজিম উদ্দিনের ভাই আলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের কোনো দোষ ছিল না। বর আসার আগেই সবকিছু নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমার ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আমরা এর বিচার চাই।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আযম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে হত্যাকাণ্ডসহ পুরো ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লি/আ/নিউজ
নিখোঁজ প্রবাসী মোঃ রুবেল মুন্সিকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সিকদার সোহেল ।
মোঃ রুবেল মুন্সি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি গত আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং যার কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তিনি দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বজনদের আশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মোঃ রুবেল মুন্সির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি মোঃ রুবেল মুন্সির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন বা তাকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ তদন্ত. All rights reserved.